বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে সংঘটিত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় দেশে মোট ১ হাজার ৮৫৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আজ বৃহস্পতিবার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
আইনমন্ত্রী সংসদকে জানান, দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে ৭৯৯টি সরাসরি হত্যা মামলা এবং বাকি ১ হাজার ৫৬টি অন্যান্য আইনি ধারায় করা হয়েছে।
মামলাগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে আসাদুজ্জামান বলেন, ১৫৮টি মামলার তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি হত্যা মামলা এবং ১১০টি অন্যান্য মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং এসব মামলার বিচার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
বিপুলসংখ্যক মামলার তদন্ত একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, দ্রুততম সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের লক্ষ্যে পুলিশ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি মামলায় যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে, যাতে বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো আইনি দুর্বলতা না থাকে।
আসামিদের জামিনের বিষয়ে তিনি বলেন, জামিন প্রদান সম্পূর্ণরূপে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা প্রতিটি মামলায় যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করছেন।
বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সংঘটিত নৃশংস অপরাধের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, যারা হত্যা, গুম, নির্যাতন বা পঙ্গুত্বের মতো অপরাধে জড়িত, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আসগরের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের নামে কতটি মামলা দায়ের হয়েছে, সে-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে বলেছেন, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলা করা হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা এ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, গত ৫ মার্চ ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে জেলা পর্যায়ের কমিটি এবং ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বাকি হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

