গোপালগঞ্জে লোডশেডিংয়ে পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত, ভোগান্তিতে সেবাপ্রত্যাশীরা

গোপালগঞ্জে লোডশেডিংয়ের কারণে আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা।

পাশাপাশি গত এক মাস ধরে কার্যালয়ের জেনারেটর বিকল থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলেই অফিসের কার্যক্রম থেমে যাচ্ছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের।

গোপালগঞ্জ পাসপোর্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এখানে ৭০-১০০টি আবেদন গ্রহণ করা হয়, পাসপোর্ট সরবরাহ করা হয় ৮০-১২০টি। এসব কার্যক্রম পুরোটাই বিদ্যুৎনির্ভর।

আজ বুধবার সকাল ১০টায় পাসপোর্ট অফিসে যান টুঙ্গীপাড়া উপজেলার বালাডাঙ্গা গ্রামের সম্পা বাড়ৈ। লোডশেডিংয়ের কারণে দুপুর ১টা পর্যন্ত তিনি কোনো কাজ করতে পারেননি।

সম্পা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সকালে এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেই। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি তোলার অনুমতি পেলেও বিদ্যুৎ না থাকায় অপেক্ষায় বসে থাকি।’

দূর থেকে এসে কাজ না হওয়ায় তিনি বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা গ্রামের সুমি বেগম ছেলের জন্য পাসপোর্ট করতে এসে বিদ্যুৎ না থাকায় প্রায় ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের কারণে এত সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। পাসপোর্টের মতো জরুরি সেবার ক্ষেত্রে বিকল্প থাকা উচিত।’

একই অফিসে পাসপোর্ট করতে এসে ভোগান্তিতে পড়া টুঙ্গিপাড়া উপজেলার দক্ষিণ বাসুড়িয়া গ্রামের রাফসার ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘৩-৪ বার করে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রতিবারই এ অফিসের সব কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের মতো সেবাগ্রহীতাদের পাশাপাশি কর্মকর্তাদেরও সময় নষ্ট হচ্ছে।’

কর্মকর্তারা জানান, লোডশেডিং ও জেনারেটর বিকল হওয়ার পর পরিস্থিতি নিরসনে ওই অফিসে দুটি বিদ্যুৎ ফিডার সংযোগের জন্য গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ বিতরণ অফিসে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি জেনারেটর মেরামতের দাবিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মো. নুরুল হুদা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শহরের গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোতে সাধারণত দুটি বিদ্যুৎ ফিডার থাকে। অর্থাৎ একটিতে লোডশেডিং হলেও অন্যটির মাধ্যমে কাজ চালানো যায়। কিন্তু আমাদের অফিসে বর্তমানে একটি ফিডার। দ্বিতীয় ফিডারের সংযোগ চেয়ে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হয়েছে।’

এছাড়া, বিকল জেনারেটর মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। টেকনিশিয়ানরা পরিদর্শন করে নতুন জেনারেটর স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

লোডশেডিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঈন উদ্দিন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শহরে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ মিলছে ৮ মেগাওয়াট। এ কারণে বাধ্য হয়েই রোটেশন পদ্ধতিতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’

নতুন ফিডার সংযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পাসপোর্ট অফিসে বর্তমানে একটি ফিডার রয়েছে এবং তারা আরও একটি সংযোগ চেয়েছে। কাছাকাছি বিকল্প ফিডার থাকলে সংযোগ দেওয়া সম্ভব। তবে এর লাইন ও স্থাপনের খরচ সংশ্লিষ্ট অফিসকেই বহন করতে হবে।’

Related Articles

Latest Posts