বাউল সুনীল কর্মকার আর নেই

উপমহাদেশের বিখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

আজ শুক্রবার ময়মনসিংহ বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানানআজ ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি নিউরোলজি ও শ্বাস-প্রশ্বাসজিনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।

রেজাউল করিম আসলাম বলেনসুনীল কর্মকার দেশে ও বিদেশে মরমী বাউল শিল্পী জালাল খাঁ, উকিল মুন্সীরশিদ উদ্দিনমনমোহন দত্তসহ অনেকের গান গেয়েছেন।

আধুনিকতার পরশে ও ডিসকো গানের ভিড়ে বাউল গানের ঐতিহ্য আজ যখন হারাতে বসেছে তখন ঐতিহ্য রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার। যার দুই চোখে কোনো আলো ছিল না, অথচ অন্তরে ছিল হাজারো আলোকছটা। যার মাধ্যমে তিনি প্রাণবন্ত করে তুলেছেন আমাদের গ্রামবাংলার মানুষের মন ও বাউল সংগীতকে,’ বলেন তিনি।

সুনীল কর্মকার বেহালাদোতারাতবলা ও হারমোনিয়ামসহ একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়া তিনি শতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন।

লোক সংগীতে অবদানের জন্য সুনীল কর্মকার ২০২২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির দেওয়া শিল্পকলা পদক অর্জন করেন।

১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া থানার বারনাল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন সুনীল কর্মকার। পিতা দীনেশ কর্মকার ও মাতা কমলা রানী কর্মকার। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বজ্যেষ্ঠ।

সাত বছর বয়সে বাউল গানের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। তখন তার গ্রামের বাড়িতে বাউল গানের আসর বসতো। মাত্র আট বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বরে অন্ধত্ব বরণ করেন। তবুও গানের মায়া ছাড়েননি। বরং ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর প্রধান শিষ্য ওস্তাদ ইসরাইল মিয়ার শিষ্যত্ব গ্রহণ করে গানের সাধনা অব্যাহত রাখেন।

এদিকে বাউল সুনীল কর্মকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

এক শোকবার্তায় তিনি বলেনসামষ্টিকভাবে এটি আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করি।

গুণী এই শিল্পীর অসুস্থতার খবর পাওয়া মাত্রই সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় দ্রুত তার পাশে দাঁড়ায় বলে শোকবার্তায় উল্লেখ করেন তিনি।

Related Articles

Latest Posts