ক্ষমতায় গেলে মিথ্যা মামলা দিয়ে কাউকে হয়রানি করব না: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেনআমরা ক্ষমতায় গেলে মিথ্যা মামলা দিয়ে কাউকে হয়রানি করা হবে না বরং প্রমাণিত হলে মিথ্যা মামলা দায়েরকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে 

তিনি বলেনঅতীতে যারা নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারেনিএখন তাদের ভোট চাওয়ার কোনো অধিকার নেই। ভোট তারাই চাইবেযারা ১৮ কোটি মানুষকে সম্মান করেছে এবং এখনো সম্মান করেছে। জনগণ তাদেরকেই বাছাই করবে।

আজ শুক্রবার দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা শহরের পাবলিক মাঠে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী সভায় এসব বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেনজামায়াতে ইসলামী চাঁদাবাজি করে নাদুর্নীতি করে নাদখল বাণিজ্য করে নামা-বোনদের গায়ে হাত দেয় না, নির্যাতন করে নাব্যাংক ডাকাতি করে নাঋণ খেলাপি নয়।

শফিকুর রহমান বলেনকোটি কোটি টাকা চুরি হয়েছেবিদেশে পাচার হয়েছে। আল্লাহ যদি সুযোগ দেন ওদের মুখের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে পেটের ভেতর  থেকে বের করে আনব।

তিনি আরও বলেনআগামী ১২ তারিখ নতুন সূর্য পিঠে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ শুরু হবে। সেই নতুন বাংলাদেশে আমাদের ভূমিকা আপনাদের দু’হাতের দশ আঙুলের মতো পরিষ্কার থাকবে।

জামায়াত আমির বলেনগত ৫৪ বছরে শাসকরা আমাদের দুর্নীতিচাঁদাবাজিদখল বাণিজ্যফ্যাসিবাদ ও বিচারহীনতা উপহার দিয়েছে। এই বাংলাদেশকে পাল্টে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।

এর আগেআজ সকাল ১০টা ২০ মিনিটে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় কথা বলেন তিনি।

সেখানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের একজন লোকও চাঁদাবাজি করেনি। ৫ আগস্টের পর আমরা স্ট্যান্ডবাজি মামলা বাণিজ্য না করে সারা দেশের মানুষের সম্পদ ও ইজ্জতের পাহারাদার হিসেবে কাজ করেছি। আরেক দল নেমে গেল নিজেদের কিসমত বানাতে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জামায়াত নিজেরা চাঁদাবাজি করবে না এবং কাউকেও চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না।’

জুলাই শহীদরা তাদের প্রাণ দিয়ে এই পরিবেশ এনে দিল! তাদের প্রতি আমাদের দায় আছে। তারা চেয়েছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। যদি আপনাদের ভোটে ১১ দলের জোট জিতে যায় তাহলে বাংলাদেশ জিতে যাবে। আমরা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করব,’ যোগ করেন তিনি।

নারী ও যুবকদের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেনবেকার ভাতা দিয়ে নয়কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুবকদের সম্মান নিশ্চিত করতে চায় জামায়াত। নারীদের নিরাপত্তামর্যাদা ও সম্মান শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

বরিশাল অঞ্চলের নদী-ভাঙন প্রসঙ্গে তিনি বলেননদী শাসনের চেয়ে নদী সংস্কার জরুরি। সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণ ও নদী সংস্কার করা গেলে এক দশকের মধ্যে এই অঞ্চলের চিত্র বদলে যাবে।

জনসভায় তিনি বলেনজামায়াতে ইসলামীর দলীয় বিজয়ের চেয়ে জনগণের বিজয়ই মুখ্য।

বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেনরাষ্ট্রপতি থেকে সাধারণ মানুষ আইনের চোখে সবাই সমান থাকবে।

তিনি বলেন, ‘১২ তারিখ প্রথম ভোট হবে গণভোটহ্যাঁ ভোট। পরের ভোট হবে দাঁড়িপাল্লায়। একটা বার সুযোগ দেনকোনো ধর্মের বর্ণের বৈষম্য থাকবে নাযার যার যোগ্যতা অনুযায়ী দেশটা গড়ব। এই বাংলাদেশই থাকবেতবে এর চরিত্র বদলে যাবেএটা হবে গণমানুষের বাংলাদেশ।’

Related Articles

Latest Posts