ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি (সিইসি)। আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোরে এই ফল প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতভাগ ভোট গণনা শেষে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি, গাদি আইজেনকোটের জোট ৪৮টি এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেয়েছে।
চূড়ান্ত হিসাবে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ ভোটের হার। ভোট দিয়েছেন মোট ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫ জন।
চূড়ান্ত ফলের বিস্তারিত
চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন, আইজেনকোটের ইয়াশার ২১টি, নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের ‘টুগেদার’ (বেইয়াখাদ) ১২টি, জয়েন্ট লিস্ট ১১টি, ইয়ার গোলানের দ্য ডেমোক্র্যাটস ৮টি, আরব দল রা’আম ৮টি, আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু ৭টি, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ৭টি, ওতজমা ইয়েহুদিত ৭টি, শাস ৬টি এবং রিলিজিয়াস জায়নিস্টস ৬টি আসন পেয়েছে।
নির্বাচনে আরও কয়েকটি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তারা কোনো আসন পায়নি। এমন দলের মধ্যে আছে রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি, পিপল অব ইসরায়েল পার্টি এবং দ্য চেরেডি পাবলিক পার্টি।
বর্তমান সরকারে থাকা নেতানিয়াহুপন্থী জোটের নেসেটে ৬৮টি আসনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। নতুন ফলাফলে তাদের আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
আরব নেতৃত্বাধীন জোট জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। নেসেটে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ১০টি আসনের তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ।
ফল হস্তান্তর বুধবার, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ
পূর্ণাঙ্গ ফলাফল আগামী বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এর আগে কোনো ভুল বা অভিযোগ নিয়ে চূড়ান্ত অনুসন্ধান শেষ করবে নির্বাচন কমিটি।
এরপর পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য কাকে উপযুক্ত মনে করেন, সে বিষয়ে সুপারিশ জানাতে প্রতিটি দলের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন হারজগ।
শুক্রবার ভোরে দেওয়া বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডিন লিভনের আগের দিনের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার হিব্রু গণমাধ্যমে খবর আসে, ইসরায়েলের নির্বাচনে বিদেশি শক্তিরা হস্তক্ষেপ করেছে। কাতার থেকে বিপুল পরিমাণ তহবিল পাঠিয়ে আরবদের ভোটে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে।
এই অভিযোগ আসার পর কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান নোয়াম সোলবার্গ দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকে বিষয়টি যাচাই করে দেখার নির্দেশ দেন।
তবে কাতারি প্রচারণাকে ঘিরে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নাকচ করে দেয় কমিটি। গতকাল ডিন লিভনে বলেন, ‘দিনভর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।’
তিনি আরও বলেন, তদন্তের কারণে ‘প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দেওয়া চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না। এ ছাড়া, জনসংখ্যার কোনো নির্দিষ্ট অংশকে লক্ষ্য করে এই তদন্ত করা হচ্ছে না।’
সরকার গঠনে জটিলতা
পরবর্তী সরকার গঠনের আলোচনা যে মসৃণ হবে না, এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
আইজেনকোটের জোটের দ্য ডেমোক্র্যাটস ছাড়া অন্য দলগুলো রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করার সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়ায় এই আসনগুলো নেতানিয়াহুবিরোধী জোটকে সহজেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিতে পারছে না।
কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের কাছাকাছি না থাকায় এ আলোচনা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সরকার গঠনের আলোচনা যে পর্যায়েই থাকুক, আগামী ১০ নভেম্বর নেসেটের নতুন সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
গত বুধবার হারজগ দলীয় নেতাদের আরেক দফা নির্বাচন এড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আরেক দফা নির্বাচন এড়াতে আমাদের সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে, বিশেষ করে গতকালের ঘটনার পর। তাই যারা এখানে আসবেন, তাদের সবার কাছ থেকেই আমি খোলা মন নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার প্রত্যাশা করছি।’
নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট দুজনই পরবর্তী সরকার গঠন করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

