যুদ্ধ-অবরোধ: দ্বিগুণের বেশি মুনাফা বেড়েছে মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এক্সনমোবিল-শেভরনের

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এবং রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটিয়েছে। এর ফলে পেট্রল, ডিজেলসহ প্রায় সব ধরনের জ্বালানির দাম বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সম্প্রতি সৌদি আরব ও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলার কারণেও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা কমেছে।

সবমিলিয়ে, বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে এই চরম অস্থিরতায় ভুক্তভোগী বিশ্বের প্রায় সব দেশের মানুষ।

কিন্তু এমন সংকট ও অস্থিরতাই যেন শাপে বর হয়ে দেখা দিয়েছে মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য। 
আজ শুক্রবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিগুণেরও বেশি মুনাফা বেড়েছে এক্সনমোবিল ও শেভরনের।

পরিশোধন মুনাফার হার ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন এই দুই বৃহৎ তেল কোম্পানি আশাতীত মুনাফা অর্জন করেছে। গত ত্রৈমাসিকে এক্সনমোবিলের মুনাফা হয়েছে ১৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে, শেভরনের মুনাফা হয়েছে ৯ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ছিল সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার।

এর মধ্যদিয়ে এক্সন গত ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের চেয়ে পরিশোধন ব্যবসা থেকে বেশি আয় করেছে। একই সময়ে শেভরনের ওই দুই খাতের আয়ও ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এক্সনের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা নিল হ্যানসেন এক সাক্ষাৎকারে জানান, জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের শোধনাগারগুলোতে আরও বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। বিশ্বের যেসব স্থানে জ্বালানির প্রয়োজন, সেখানে সরবরাহ পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্য কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

শেভরনের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ইমার বনর রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে জানান, মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির শোধনাগারগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তৃতীয় প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের স্পট দর প্রতি ব্যারেল সর্বনিম্ন ৬৮ ডলার থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ১৩২ ডলারে পৌঁছেছিল। এতে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা স্পষ্ট হয়েছে বলে জানান বনর।

তৃতীয় প্রান্তিকে এক্সন শেয়ারপ্রতি সমন্বিত মুনাফা করেছে ৪ দশমিক ২৩ ডলার। অন্যদিকে, শেভরনের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত মুনাফা হয়েছে ৫ দশমিক ২৮ ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে জ্বালানির উচ্চমূল্য। ডিজেল-পেট্রলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশটির ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে।

Related Articles

Latest Posts