দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যের অন্ধকারে বেড়ে ওঠা এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। বাবা ছিলেন বাসচালক, সংসারে সাত ভাইবোন। সেই পরিবার থেকেই উঠে এসে একদিন বিশ্বমঞ্চে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ হয়ে ওঠেন নাভানেথাম নাভি পিল্লাই।
রাজনৈতিক বন্দিদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন, রুয়ান্ডার গণহত্যার বিচার করেছেন, দায়িত্ব পালন করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে। এবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।
হার্ভার্ড ল বুলেটিন ২০০৬ সালে পিল্লাইকে নিয়ে ‘বাসচালকের মেয়ে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে উঠে এসেছিল দারিদ্র্য ও বৈষম্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এক মেয়ের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করার গল্প।
জাতিসংঘকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশবের কথা বলতে গিয়ে পিল্লাই বলেছিলেন, ‘আমরা খুব গরিব পরিবারে বড় হয়েছি। আমার বাবা ছিলেন একজন বাসচালক। আমরা ছিলাম সাত ভাইবোন।’
সেই পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি কেবল নিজের জীবনের গতিপথই বদলাননি, ভূমিকা রেখেছেন আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু নজির প্রতিষ্ঠায়। তার কর্মজীবনের কেন্দ্রে ছিল একটি প্রশ্ন—ক্ষমতাবান ব্যক্তিরাও কি ভয়াবহ অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হবেন? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তার দীর্ঘ পথচলা।

১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানের ক্লেয়ারউডে জন্ম নাভি পিল্লাইয়ের। বাসচালক বাবার সাত সন্তানের একজন ছিলেন তিনি। তার শৈশব কেটেছে এমন এক সমাজে, যেখানে মানুষের অধিকার, চলাফেরা, শিক্ষা ও জীবনের সুযোগ অনেকাংশেই নির্ধারিত হতো গায়ের রং দিয়ে।
তখন দক্ষিণ আফ্রিকায় অ্যাপারথেইড বা বর্ণবৈষম্য ছিল রাষ্ট্রীয় নীতি। শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু শাসকগোষ্ঠী কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য অশ্বেতাঙ্গ মানুষের বসবাস, চলাফেরা, শিক্ষা এবং রাজনৈতিক অধিকার নিয়ন্ত্রণ করত। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষেরাও এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার শিকার হতেন।
এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠা পিল্লাইয়ের জন্য আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার ছাত্রজীবনেই।
দক্ষিণ আফ্রিকার নাটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন পিল্লাই। ১৯৬৩ সালে ব্যাচেলর অব আর্টস (বিএ) এবং ১৯৬৫ সালে ব্যাচেলর অব লজ (এলএলবি) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ও উচ্চতর গবেষণাভিত্তিক ডিগ্রি নেন।
নাটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় গ্রন্থাগারে নুরেমবার্গ বিচারের নথিপত্র পড়েছিলেন পিল্লাই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নাৎসি নেতাদের বিচারের জন্য এই বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সেই নথিপত্রে তিনি দেখেছিলেন, ভয়াবহ অপরাধের জন্য রাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদেরও বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব।
এই উপলব্ধি তার চিন্তাজগতে গভীর প্রভাব ফেলে। পরবর্তী জীবনে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার আন্তর্জাতিক উদ্যোগে যুক্ত হন তিনি। তার কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোতে বারবার ফিরে এসেছে সেই একই বিশ্বাস, ক্ষমতার ঊর্ধ্বে কেউ নন।
১৯৬৭ সালে নাটাল প্রদেশে নিজের আইন ব্যবসা শুরু করেন পিল্লাই। সেখানে নিজস্ব আইন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রথম বর্ণগতভাবে নিপীড়িত নারী হিসেবে পরিচিতি পান তিনি।
তখন দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের প্রায়ই গ্রেপ্তার করা হতো। তাদের অনেকের পক্ষে আদালতে দাঁড়ান পিল্লাই। তার মক্কেলদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মীদের পাশাপাশি তার স্বামীও ছিলেন।
সেই সময় নিপীড়িত মানুষের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কাজ করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের হয়ে আদালতে দাঁড়ানো মানে ছিল বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। আটক ব্যক্তিদের অধিকার, হেফাজতে নির্যাতন এবং আইনজীবীর সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে কাজ করেন তিনি।
১৯৭৩ সালে রাজনৈতিক বন্দিদের আইনজীবীর সহায়তা পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সাফল্য অর্জন করেন পিল্লাই। তবে আইন পেশায় দীর্ঘদিন কাজ করেও বর্ণবৈষম্যের কারণে বিচারকের কক্ষে প্রবেশের সুযোগ পর্যন্ত পাননি তিনি। বৈষম্যমূলক সেই ব্যবস্থার মধ্যেই একসময় দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হন পিল্লাই।
যে ব্যবস্থার কারণে তাকে পেশাগত জীবনে বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেই বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন তিনি।

নিজের দেশে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যান পিল্লাই। সেখানে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৮২ সালে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ১৯৮৮ সালে আইন বিষয়ে উচ্চতর গবেষণাভিত্তিক ডিগ্রি অর্জন করেন।
হার্ভার্ডে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা তার কাজের পরিসর আরও বিস্তৃত করে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনের নীতিগুলো প্রয়োগের সুযোগ পান তিনি। বিশেষ করে নারীর অধিকার রক্ষার বিষয়টি তার কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
পরে জেসিকা নিউওয়ার্থের সঙ্গে আন্তর্জাতিক নারী অধিকার সংগঠন ‘ইকুয়ালিটি নাউ’ প্রতিষ্ঠায় যুক্ত হন পিল্লাই। সংগঠনটির লক্ষ্য ছিল আইন ও নীতির মাধ্যমে নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করা এবং সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।
১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক নিযুক্ত হন তিনি। একই বছর জাতিসংঘের রুয়ান্ডাবিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক নির্বাচিত হন। এর মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবন নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করে। এবার আর শুধু একটি দেশের বিচারব্যবস্থা নয়, গণহত্যার মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে।
১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় ভয়াবহ গণহত্যা সংঘটিত হয়। প্রধানত তুতসি জনগোষ্ঠীর মানুষকে লক্ষ্য করে চালানো এই হত্যাযজ্ঞে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারান। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে জাতিসংঘ গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফর রুয়ান্ডা। পিল্লাই সেখানে আট বছরের বেশি সময় বিচারক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি ট্রাইব্যুনালের সভাপতি হন।
এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষের সাক্ষ্য শুনতে হয়েছে তাকে। কারও পরিবারের প্রায় সবাই নিহত হয়েছিলেন, কেউ নিজের চোখে দেখেছিলেন ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ। এসব সাক্ষ্য তার ওপর গভীর মানসিক চাপ তৈরি করত, এমনকি ঘুমেরও সমস্যা হতো। তবে বেঁচে যাওয়া মানুষদের সাহস তাকে অনুপ্রাণিত করত।
পিল্লাইয়ের বিচারিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি ছিল জঁ-পল আকায়েসুর মামলা। আকায়েসু ছিলেন রুয়ান্ডার তাবা এলাকার মেয়র। ১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তাকে গণহত্যাসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে। আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া প্রথম ব্যক্তি ছিলেন তিনি।
মামলাটির গুরুত্ব শুধু একজন অপরাধীর দণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার মতো অপরাধকে আন্তর্জাতিক আইনে কীভাবে বিবেচনা করা হবে, সে ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি হয় এই রায়ে।
আদালত স্বীকার করে, কোনো জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে যৌন সহিংসতা সংঘটিত হলে তা গণহত্যার অংশ হতে পারে। একইসঙ্গে ধর্ষণকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় নারীর প্রতি সংঘটিত সহিংসতার স্বীকৃতি ও বিচারপ্রক্রিয়াকে নতুন মাত্রা দেয়। যুদ্ধ ও সংঘাতের সময় নারীদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা এর আগে অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ গুরুত্ব পেত না। আকায়েসু মামলার রায় সেই দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে সহায়তা করে। মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পিল্লাই।

রুয়ান্ডার ট্রাইব্যুনালে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন পিল্লাই। নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত এই আদালত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে।
আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় তার কাজের মূল বিষয় ছিল অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষা করা। পিল্লাই মনে করতেন, আন্তর্জাতিক আদালতের গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে হলে বিচারপ্রক্রিয়া হতে হবে নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ।
রুয়ান্ডার ট্রাইব্যুনালের সভাপতি হিসেবেও বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে জাতিসংঘের প্রশাসনিক জটিলতা, সাক্ষীদের যাতায়াতের সমস্যা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে অনেক বিচার দীর্ঘায়িত হতো। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান পিল্লাই।
তার কর্মজীবনের এই অধ্যায় দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার কেবল আইনি সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সাক্ষীদের নিরাপত্তা, ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা, রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা।
২০০৮ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার নিযুক্ত হন পিল্লাই। ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ, নির্যাতনের শিকার মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষার উদ্যোগে সহায়তা করা ছিল তার কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য দূর করার বিষয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন পিল্লাই। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের অভিজ্ঞতা তাকে বুঝতে সাহায্য করেছিল, বৈষম্য শুধু ব্যক্তির আচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, আইন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানও কখনো কখনো তা টিকিয়ে রাখে।
তাই মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়ানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বৈষম্যমূলক আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর পরিবর্তন। পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনে এই উপলব্ধির প্রতিফলন দেখা যায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নিয়ে আলোচনায় ছিলেন পিল্লাই। ফিলিস্তিনের অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করা জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন তিনি।
২০২৫ সালে কমিশন গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ইসরায়েল অবশ্য কমিশনের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।
নোবেল কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন পিল্লাই।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের শিকার একটি পরিবারের সন্তান হিসেবে তার বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন, সব ক্ষেত্রেই মানবাধিকার ও জবাবদিহির প্রশ্নটি তার কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত থেকেছে।
বাসচালকের মেয়ে থেকে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠা নাভি পিল্লাইয়ের জীবন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি বৈষম্য, নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়েরও ইতিহাস।
রাজনৈতিক বন্দিদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। সেখান থেকে রুয়ান্ডার গণহত্যার বিচার, আন্তর্জাতিক অপরাধের দায় নির্ধারণ এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের নেতৃত্ব, প্রতিটি পর্যায়ে তিনি যুক্ত ছিলেন মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে।
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ কর্মজীবন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তার জীবন ও কাজ মনে করিয়ে দেয়, আইন শুধু অপরাধের শাস্তি দেওয়ার মাধ্যম নয়। নিপীড়িত মানুষের কথা শোনা, তাদের মর্যাদার স্বীকৃতি দেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
দারিদ্র্য ও বৈষম্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এক মেয়ের এই দীর্ঘ যাত্রায় তাই ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি উঠে আসে ন্যায়বিচারের জন্য অদম্য লড়াইয়ের গল্পও।
সূত্র: হার্ভার্ড ল বুলেটিন, ডন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও রয়টার্স।

