অস্ট্রেলিয়াকে ‘চমকে’ দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন জ্যোতি

নারী ক্রিকেটের ইতিহাসের সবেচেয়ে সফল দল অস্ট্রলিয়া।  তাদের কন্ডিশনে গিয়ে জয়ের দেখা পাওয়া যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই ভীষণ কঠিন এক পরীক্ষা। তবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হওয়ার আগে ভয় না পেয়ে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দল হিসেবে খেলতে পারলে বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের।

আইসিসি উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনের অ্যালান বর্ডার ফিল্ডে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এই দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ। প্রথম ম্যাচ ৯ অক্টোবর, পরের দুটি ম্যাচ যথাক্রমে ১১ ও ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। অজি কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে বাংলাদেশ দল সেখানে অনুশীলনের পাশাপাশি একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে।

অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা ও দলের ভাবনা নিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা সত্যি খুব রোমাঞ্চিত এবং এখানে এসে বেশ আনন্দিত। ভিন্ন কন্ডিশনে খেলার সময় সব সময়ই এটা চ্যালেঞ্জিং হয়। তবে আমাদের দলকে ভালো দেখাচ্ছে—আমরা এখানে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি, তাই কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছি সে সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা পেয়েছি। এটা একটি টিম গেম, আমরা শুধু নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা প্রকাশ করতে চাই।’

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে কোনো অঘটন ঘটানো সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ অধিনায়ক বেশ আশাবাদী, ‘বর্তমান সময়ে মনোযোগ ধরে রাখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সত্যি আশা করছি যে একটি পুরো ইউনিট হিসেবে খেলতে পারব। কারণ আমাদের বিশ্বাস, আমরা এমন একটি দল যে সবাই যখন একসঙ্গে খেলে এবং পুরো ইউনিট হিসেবে পারফর্ম করে, তখন যেকোনো দলকেই চমকে দিতে পারি।’

অস্ট্রেলিয়ার উইকেট ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে নিগার সুলতানা বলেন, ‘দেখুন, আমাদের দেশের চেয়ে এখানকার কন্ডিশন একেবারেই আলাদা, তাই সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করার চেষ্টা করছি। আমাদের কিছু অনুশীলন সেশন ছিল এবং আমরা একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছি, যার মাধ্যমে উইকেট সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়েছে। তাই আমার মনে হয় মূল বিষয়টা হলো মানসিকতার—আমরা এই ম্যাচে কী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নামছি। আমরা সত্যিই এর অপেক্ষায় আছি।’

এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমস- দুই দুই বড় ইভেন্টে দলের চরম ভরাডুবির পর টিম ম্যানেজমেন্টে এসেছে বদল। সারোয়ার ইমরানকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডেভিড হেম্পকে। এই কোচের অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞতা দলের কাজে দেবে বলে মনে করেন জ্যোতি, ‘তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন এবং গত দুটি টুর্নামেন্ট ধরে আমরা তার সঙ্গে কাজ করছি—খুব বেশি সময় হয়নি। তবে সব কাজ বেশ ভালোভাবেই সম্পন্ন হচ্ছে। আমরা তার কাছ থেকে বেশ কিছু ভালো ধারণা পেয়েছি। পিচ কেমন হতে পারে এবং প্রতিপক্ষ কীভাবে আক্রমণ করতে পারে—এসব নিয়ে তিনি ধারণা দিচ্ছেন। আমরা নেট সেশনে সেসব বিষয়েই অনুশীলনের চেষ্টা করছি।’

৫০ ওভারের ওয়ানডে ক্রিকেট বাংলাদেশ দলের শক্তির অন্যতম জায়গা উল্লেখ করে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমার মনে হয় এই ফরম্যাটে আমরা বেশ ভালো খেলি। দেশের মাটিতে হোক কিংবা বাইরে, এই ফরম্যাটে আমাদের ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের এমন কিছু বিশেষায়িত খেলোয়াড় আছে যারা এই ফরম্যাটে সত্যি চমৎকার খেলে। আশা করছি আমরা মাঠে নিজেদের সেরাটা প্রয়োগ করতে পারব। সবকিছুই মানসিকতার ওপর নির্ভর করে এবং আমরা ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে চাই।’

Related Articles

Latest Posts