চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ।
আজ দুপুর ২টার দিকে ‘সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট’সহ বিভিন্ন বাম রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে এই বিক্ষোভ হয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কার্যালয়ের দিকে যান আন্দোলনকারীরা।
ঘটনাস্থল থেকে দ্য ডেইলি স্টারের আলোকচিত্রী জানান, ইনভেস্ট বাংলাদেশ (সাবেক বিডা) কার্যালয়ের সামনে গিয়ে ভবনটিতে গাড়ি প্রবেশে বাধা দেন আন্দোলনকারীরা। তারা বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বন্দর ইজারার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
চুক্তির প্রতিবাদ ও হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি’। তারা জানায়, পুলিশের লাঠিচার্জে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য সীমা দত্ত, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন ও নেতা মনিরুজ্জামান মিলন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনীষা চক্রবর্তী এবং ছাত্র ইউনিয়নের আসিফ জামানসহ অনেকে আহত হয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ বিদেশিদের কাছে হস্তান্তর দেশের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ হাসিনার আমলে দেশি অপারেটরদের মাধ্যমে লাভজনক অবস্থায় থাকা এই টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সেই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার উদ্যোগ নেয়। পরে আন্দোলনের মুখে তারা পিছিয়ে এলেও, বর্তমান সরকার সব বাধা ও বিরোধ উপেক্ষা করে আজ এই চুক্তি সই করল।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকার সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে, বোয়িং ও এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি এর প্রমাণ।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম মনির দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বিক্ষোভকারীরা ইনভেস্ট বাংলাদেশ কার্যালয়ের সামনে মন্ত্রী-এমপিসহ অনেকের গাড়ির নিচে শুয়ে পড়ছিলেন। এক পর্যায়ে পুলিশ বাধ্য হয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছে।
এসময় লাঠি দিয়ে কাউকে আঘাত করা হয়নি বলে দাবি করেন ওসি।

