দেশে ঘটা অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনাকে পুঁজি করে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘এতে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হলে তার দায়ভারও তাদের নিতে হবে। বিএনপি সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডে শুধু দেশই নয়, বহিঃবিশ্বেও বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অথচ তারা অন্যদের নসিহত করে বেড়াচ্ছে।’
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল ৭১-এর রূপে আবারও ফিরে গেছে, মা-বোনদের ইজ্জত হরণ আর হত্যায় মেতে উঠেছে। এখন সময় এসেছে এদের মুখোশ উন্মোচনের।’
নাম উল্লেখ না করে রাজনৈতিক দলটিকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দয়া করে আগে নিজের ঘর সামলান, পরে অন্যদের নসিহত করুন।’
একমাত্র বিএনপি দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিএনপি সরকার গঠন করেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এর ফলে সরকারের দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও দেশের ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছে।’
গত ১৭ বছর স্বৈরাচারী সরকার জনগণের কণ্ঠরোধ করে অধিকারবঞ্চিত করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সেই অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে।
উদ্বোধন হওয়া মুহুরী-কহুয়া সেচ প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে। তিনি বলেন, ‘এর ফলে নতুন করে ৩৪ হাজার হেক্টর জমি আবাদের আওতায় আসবে। এক লক্ষ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন বাড়বে।’
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু।

