দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে সম্ভাব্য সবচেয়ে কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত বলে মনে করেন স্প্যানিশ লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। তার মতে, ইউরোপের অন্য ক্লাবগুলোর জন্য এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে কেবল একটি ছাড়া বাকি সবকটিতেই সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে স্বাধীন একটি কমিশন। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে আসে এই খবর। তবে ক্লাবটিকে কী শাস্তি দেওয়া হবে, সেটির বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ম্যান সিটি অবশ্য শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো মন্তব্যও করেনি। তবে আর্থিক জরিমানা থেকে শুরু করে পয়েন্ট কাটা, এমনকি রেলিগেশনের (নিচের স্তরের লিগে অবনমন) মতো শাস্তির মুখেও পড়তে হতে পারে তাদের।
গতকাল সোমবার লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে তেবাস বলেন, ‘ম্যানচেস্টার সিটিকে নিয়ে আমি অনেক বছর ধরেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছি। ২০১৭ সালে সকারেক্সে (ফুটবল জগতের ব্যবসা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বিপণন সংক্রান্ত বৈশ্বিক সম্মেলন) আমি এই কথা বলেছিলাম। তখন সিটি বা প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ— কারও কাছেই আমার কথাগুলো ভালো লাগেনি।’
তার মতে, এই ঘটনার প্রভাব শুধু ইংলিশ ফুটবলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ‘এখন এটা প্রমাণিত যে, ২০০৯ সাল থেকেই তারা ক্রমাগত নিয়ম ভঙ্গ করে আসছিল। আমরা সব প্রতিযোগিতাতেই ফুটবলকে টেকসই ও পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করছি। অনেক ক্লাবই বলছে, তারা এমন কিছু শিরোপা হারিয়েছে, যেগুলো তাদের হারানো উচিত হয়নি। যা ঘটেছে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি, এটি শুধু প্রিমিয়ার লিগের জন্যই নয়, বরং পুরো ফুটবলের জন্যই একটি মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হবে।’
২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালে ম্যান সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো এনেছিল প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। সেগুলোর মধ্যে আছে সঠিক আর্থিক তথ্য না দেওয়া, খেলোয়াড় ও কোচদের পারিশ্রমিকের তথ্য গোপন করা এবং আর্থিক স্থায়িত্বের নিয়ম ভঙ্গ করা।
‘ম্যানচেস্টার সিটির এই ঘটনার প্রভাব পুরো ইউরোপে পড়বে, বিশেষ করে আর্থিক ডোপিংয়ের (অনৈতিকভাবে বাইরের অর্থ এনে ক্লাবের আয় হিসেবে দেখানো) ক্ষেত্রে। তাদের এমন শাস্তি হওয়া উচিত, যা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে,’ যোগ করেন লা লিগার সভাপতি।
এত দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ম ভঙ্গের কারণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন তেবাস, ‘১০ বছরের বেশি সময় ধরে নিয়ম ভাঙাটা… খুবই গুরুতর একটি বিষয়। তাই শাস্তিটাও কঠোর হওয়া উচিত। শুধু দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য নয়, বরং তারা নিয়ম ভেঙেছে বলেই এই শাস্তি প্রাপ্য।’
২০০৮ সালে শেখ মনসুরের মালিকানায় থাকা আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপের অধীনে যাওয়ার পর ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে ম্যান সিটি। মনসুর আবুধাবির রাজপরিবারের সদস্য ও রাজনীতিবিদ। গত ১৫ বছরে দলটি আটটি প্রিমিয়ার লিগ, চারটি এফএ কাপ, সাতটি লিগ কাপ ও একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ম্যান সিটির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রিমিয়ার লিগের অন্য ক্লাবগুলো ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি পরামর্শ নিচ্ছে। ইউরোপের অন্যান্য লিগের দলগুলোও একই পথে হাঁটবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে লা লিগার প্রধানের জবাব, ‘তারা এমনটা করতেই পারে, তবে নির্দিষ্ট করে শুধু সিটির কারণেই নয়।’
এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে স্পনসরশিপ থেকে পাওয়া আয়ের হিসাব ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানোর দায়ে ২০২০ সালে সাজা পেয়েছিল সিটি। তখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে দুই বছরের জন্য তাদেরকে নিষিদ্ধ করেছিল ইউরোপের সর্বোচ্চ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। তবে ক্লাবটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সফল হয়েছিল। ফলে নিষেধাজ্ঞাটি বাতিল হয়ে যায়।
ওই প্রসঙ্গ টেনে তেবাস বলেন, ‘আমার মতে, কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টের (সিএএস) সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করা উচিত। উয়েফার দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তারা বাতিল করেছিল, যে সিদ্ধান্তটি ছিল বেশ প্রশ্নবিদ্ধ। এখন প্রমাণিত হয়েছে যে, ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে উয়েফার দেওয়া নিষেধাজ্ঞাটিই সঠিক ছিল।’

