একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ বর্তমানে নেপালে। সেখানে প্রথমবারের মতো নেপালি ভাষার একটি নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন নেপালের কাঠমান্ডুর সর্বনাম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নেপাল থেকে আজ সোমবার সকালে দ্য ডেইলি স্টারকে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘নেপালে আগেও মঞ্চনাটকে অভিনয় করেছি। কিন্তু নেপালি ভাষায় নাটক নির্দেশনা এবারই প্রথম দিচ্ছি। এই নাটকে আমি অভিনয় করছি না। শুধুই নির্দেশনা দিচ্ছি।’
নেপালি ভাষায় মামুনুর রশীদ যে নাটকটি নির্দেশনা দিচ্ছেন, তার নাম ‘আয়ো গোর্খালি’। নাট্যকার মক চিউ ইয়ু। এতে অভিনয় করেছেন নেপাল, আয়ারল্যান্ড ও হংকংয়ের শিল্পীরা।
নেপালি ভাষায় নাটক নির্দেশনার অনুভূতি জানাতে গিয়ে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘এই অনুভূতি বলে বোঝানোর মতো নয়। অসাধারণ ভালো লাগা কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘এক মাস ধরে কাজ করছি। গত কয়েকদিন ধরে চলছে মহড়া। আমার জীবনে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা এটি। যে ভাষা জানি না, সেই ভাষায় নাটক নির্দেশনা দিচ্ছি। কী যে মুগ্ধতা কাজ করছে। এটা কখনো ভুলব না।’
মামুনুর রশীদ আরও বলেন, ‘এই নাটকটি পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় মঞ্চায়ন হবে। এটাও বিশাল ব্যাপার। এটাও মঞ্চনাটকের জন্য বড় কিছু।’
নাটকটির নাট্যকার সম্পর্কে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘১৫-২০ বছর আগে তার সঙ্গে আমার পরিচয়। তিনি হংকংয়ের মানুষ।’
নাটকটির নেপালে দুটি প্রদর্শনী হবে। প্রথম প্রদর্শনী আজ বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং দ্বিতীয় প্রদর্শনী আগামীকাল একই সময়ে, একই মঞ্চে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘কাজটি আমার জন্য অনেক কঠিন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্য ভাষার নাটক নির্দেশনা অনেক চ্যালেঞ্জিং। আমি তো শিল্পের মানুষ। সেই দিক দিয়ে কাজটি করতে পেরে অন্যরকম আনন্দ কাজ করছে।’
মামুনুর রশীদ বলেন, ‘যুদ্ধ শেষে ন্যায্য পাওনা পায় না গোর্খারা। এখানেও বৈষম্য। কিন্তু ব্রিটিশ সৈন্যরা পায়। গোর্খারা ভীষণ সাহসী। তাদের জীবন ও সংগ্রাম নিয়েই এই নাটকের ঘটনা এগিয়ে যাবে।’

