চারটি পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ল প্রথমার্ধে। বিরতির পর বল দখলে আধিপত্য করার পাশাপাশি অনেকগুলো কর্নার আদায় করে নিল তারা। কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে পারল না থমাস ডুলির শিষ্যরা। একটানা চাপ ধরে রাখলেও তাদের আক্রমণগুলো বারবার মুখ থুবড়ে পড়ল সিঙ্গাপুরের রক্ষণভাগে গিয়ে। ফলে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
সোমবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় গেলোরা বাং কার্নো স্টেডিয়ামে ফিফা আসিয়ান কাপের ডিভিশন ওয়ানের ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে পরাস্ত হওয়া আগের ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্স ছিল ছন্নছাড়া। সেই তুলনায় এদিন ভালো খেলেছেন হামজা চৌধুরী-মেহেদী হাসান শ্রাবণরা।
বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের একাদশ থেকে চারটি পরিবর্তন আনেন কোচ ডুলি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে না খেলা জামাল ভূঁইয়া শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। তার পাশাপাশি শুরুর একাদশে ঠাঁই পান শেখ মোরসালিন, শুকি ইতোফুসা ও জিদান ইউসুফ। ফলে সোহেল রানা সিনিয়র, ফারহান আলী ওয়াহিদ, শাকিল আহাদ তপু ও ফাহামেদুল ইসলামের জায়গা হয় বেঞ্চে।
গোলরক্ষক শ্রাবণ বেশ কয়েকটি ভালো সেভ করলেও ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে আর পারেননি। বামপ্রান্ত থেকে নূর আদম আবদুল্লাহর ক্রসে হেড করে জাল কাঁপান মিডফিল্ডার হ্যারিস স্টুয়ার্ট। তিনি ডি-বক্সের দিকে দৌড়ে গেলেও তাকে মার্ক করেননি বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড়। দুই মিনিট পর সিঙ্গাপুরের আরেকটি প্রচেষ্টা পোস্টে লাগায় ব্যবধান বাড়েনি।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করে। তবে বাংলাদেশের খেলায় তাড়না ছিল তুলনামূলক বেশি। বদলি হিসেবে নামানো হয় অভিষিক্ত মিনহাজুল স্বাধীন, মোহাম্মদ সোহেল রানা, ফাহামেদুল ও রহমত মিয়াকে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা আর মেলেনি। শমিত সোমের হেড লক্ষ্যে থাকেনি, রাকিব হোসেনের হেড যায় সরাসরি গোলরক্ষকের কাছে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৩৪ ধাপ এগিয়ে থাকা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এই নিয়ে ছয়বার মুখোমুখি হয়ে চতুর্থ হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। দুই দলের আগের দেখায় দেখা গত মার্চে এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে স্বাগতিক সিঙ্গাপুর জিতেছিল ১-০ ব্যবধানে। এর আগে বাছাইয়ের প্রথম লেগে গত বছরের জুনে তাদের কাছে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ হেরেছিল ২-১ গোলে।
‘এ’ গ্রুপে দুই ম্যাচে ০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে ডুলির দল। আগামী ১ অক্টোবর শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ। টানা দুই হারে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলার সম্ভাবনাও প্রায় শেষ হয়ে গেল তাদের জন্য। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার দিনের পরের ম্যাচটি ড্র হলেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়বে বাংলাদেশ।

