জয় দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করেছে পর্তুগাল। তবে জয়টা যতটা স্বস্তির, গোলের ব্যবধান ততটাই অস্বস্তির। ওয়েলসের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে আধিপত্য, ১৯টি শট এবং একের পর এক সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত মাত্র এক গোলেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে পর্তুগালকে। জোয়াও ফেলিক্সের দূরপাল্লার শটই এনে দিয়েছে ১-০ ব্যবধানের জয়। আর গোলের অপেক্ষায় থাকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ফিরতে হয়েছে হতাশ হয়ে।
নতুন কোচ হোর্হে জেসুসের অধীনে এটাই ছিল পর্তুগালের প্রথম ম্যাচ। নেশন্স লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা লিসবনে বল দখল থেকে শুরু করে আক্রমণ, সব দিকেই ওয়েলসকে চাপে রাখে। পর্তুগাল ১৯টি শট নেয়, বিপরীতে ওয়েলসের শট ছিল মাত্র চারটি। কিন্তু একের পর এক সুযোগ নষ্ট হওয়ায় শেষ পর্যন্ত জয়টা হয়ে ওঠে প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন।
২২ মিনিটেই ব্যবধান গড়ে দেন ফেলিক্স। বক্সের প্রান্ত থেকে তার নিচু শট ওয়েলস অধিনায়ক বেন ডেভিসের গায়ে সামান্য লেগে দিক পরিবর্তন করে। এরপর বল চলে যায় গোলরক্ষক ড্যানি ওয়ার্ডের নাগালের বাইরে, ঢুকে পড়ে দূরের পোস্টের নিচ দিয়ে।
প্রথমার্ধেই পর্তুগালের আক্রমণাত্মক আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। বিরতির আগেই ১৩টি শট নেয় তারা। ফেলিক্স বলেন, ‘আমরা প্রথমার্ধেই ১৩টি শট নিয়েছি, যা অনেক। তাদের একটি পরিষ্কার সুযোগও আমার মনে পড়ছে না। আমরা বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছি। আমাদের কাছ থেকে এমনটাই প্রত্যাশা করা যায়। আজ আমরা মাত্র একটি গোল করেছি, তবে এভাবে চালিয়ে যেতে পারলে আরও গোল করব।’
পর্তুগালের অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দেসও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি খুব ভালো ম্যাচ ছিল। আমরা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছি এবং অনেক সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু আরও গোল করতে পারিনি। আমরা তিন পয়েন্ট চেয়েছিলাম এবং সেটি পেয়েছি।’
তবে পর্তুগালের সব আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন রোনালদো। ২০০৩ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ১৪৬ গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া ৪১ বছর বয়সী এই তারকা মাঠে থাকলেই গ্যালারির উত্তেজনা বেড়ে যায়। প্রতিপক্ষের গোলের কাছাকাছি বল পেলেই তার নামে গর্জে ওঠে লিসবনের গ্যালারি।
কিন্তু এবার সেই গর্জনকে গোলে পরিণত করতে পারেননি রোনালদো। তার একটি শট সাইডনেটে লাগে। কাছ থেকে পাওয়া দারুণ একটি ভলিও নিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সেটি উড়ে যায় গোলবারের অনেক ওপর দিয়ে। ম্যাচের এক ঘণ্টা পর অবশ্য গোল পেয়েছেন বলে মনে হয়েছিল। ওয়েলসের জালে বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
এর সাত মিনিট পরই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। রোনালদো মাঠ ছাড়ার পর গ্যালারির উত্তেজনাও কিছুটা কমে যায়, আর পর্তুগালের আক্রমণেও দেখা দেয় ছন্দপতন।
সেই সুযোগে শেষদিকে সমতায় ফেরার খুব কাছে চলে গিয়েছিল ওয়েলস। তাদের সবচেয়ে ভালো সুযোগটি আসে দুই দফায়। প্রথমে ব্রেনান জনসন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তার ওপর দিয়ে বল তুলে দেন। কোস্তা তখন গোল ছেড়ে অনেকটা সামনে। বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
ফিরতি বলে লুইস কোমাস ও ড্যান জেমস দুজনই ছুটে যান। শেষ পর্যন্ত কোমাসের নেওয়া দুর্বল শট সরাসরি গোললাইনে থাকা রুবেন দিয়াসের গায়ে লাগে। ফলে অল্পের জন্য সমতায় ফেরা হয়নি ওয়েলসের।

