অতিরিক্ত ভাড়া নিলে জরিমানা-রুট পারমিট বাতিল: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে আলোচনার পর সরকার বাস ভাড়া যৌক্তিকের চেয়ে কম নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি আরও বলেন, কেউ সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত নিলে রুট পারমিট ক্যানসেল করা হবে, ফাইনের ব্যবস্থা থাকবে এবং আগামীতে রুট পারমিট দেওয়া হবে কি না সেটা নিয়েও জবাবদিহি করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নতুন নির্ধারিত বাস ভাড়ার প্রজ্ঞাপন আজই প্রকাশ করা হবে জানিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘গেজেট হয়ে যাওয়া মানেই হচ্ছে কার্যকর হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সংকট বিশ্বব্যাপী এবং একটা অবধারিত পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বাড়াতে হয়েছে।’

‘জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে পরিবহন ভাড়া বাড়ার একটা যৌক্তিক দাবি থাকে। একটি প্রক্রিয়াও প্রচলিত আছে দীর্ঘদিন ধরে যে, জ্বালানির দাম যদি ১ টাকা বাড়ে, ভাড়া বাড়ে ১ পয়সা এবং এটা সহনীয়।’

রবিউল বলেন, এই সরকারের আমলে এর আগেরবার লিটারপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম যখন ১৫ টাকা বেড়েছিল, তখন ভাড়া ১৫ পয়সা বাড়ানোর যৌক্তিক দাবি ছিল। ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যবস্থাপনার খরচ বেড়েছে। সেটা বিবেচনায় নেওয়া দাবি তাদের ছিল। মেইনটেনেন্স কস্ট বাড়ার পরও ভাড়া না বাড়ালে ওদের লস হয়। সেটা আমরা গতবার আমলে নেইনি। আমরা বর্ধিত ভাড়া ১১ পয়সা করতে সক্ষম হয়েছিলাম।

‘এবার ২০ টাকা বেড়েছে লিটারপ্রতি, তাতে প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ২০ পয়সা বাড়ে। এর নিচে তারা কোনোভাবেই মানতে চায়নি। তারা আরও দাবি জানিয়েছিল মেইনটেনেন্স ব্যয়ও যেন আমরা এবার কনসিডারেশনে নেই,’ বলেন তিনি।

রবিউল আরও বলেন, ‘একটা সুসংবাদই বলতে পারেন যে ২০ পয়সার পরিবর্তে ১৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিবেচনায় অনেক কিছু আছে। কিন্তু বাস্তবতার জায়গাটা হচ্ছে যে পরিবহন সেক্টরের ব্যয়ও বেড়েছে, মেইনটেনেন্স ব্যয়ও বেড়েছে। ডলারের দাম বেড়েছে, সেখানে তারা প্রায় ২০ পয়সার মতো দাবি করেছে। এ কথা তো অস্বীকার করবেন না, যাদের ভেহিকল আছে তারা জানেন যে এক্সেসরিজের প্রাইসটা কেমন বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী বেড়েছে, বাংলাদেশেও বেড়েছে। সরকার সমন্বয় করার চেষ্টা করেছে সব সময় জনস্বার্থ বিবেচনা করে।’

‘ভাড়া কমাতে পারলে ভালো লাগতো,’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনেক জায়গায় ইতোমধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আমার একবারের অভিজ্ঞতা থেকে বলি, গতবার বাড়িয়েছিলাম ১১ পয়সা, কার্যকর হয়েছে, তার চেয়ে বেশি কেউ নেয়নি। এবার ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে, এর ব্যত্যয় ঘটবে না এবং ঘটতে দেওয়া হবে না।’

‘বিচ্ছিন্নভাবে দুএক জায়গায় এ রকম চেয়েছে, এই প্রবণতাটা আমাদের দেশে আছে। আমাদের দেশে পরিবহন সেক্টর একেবারে সুশৃঙ্খল, একেবারে নীতি-আদেশ মেনে চলে তা তো না! এটা তো স্বীকার করতেই হবে,’ যোগ করেন তিনি।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যদি কেউ এই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেয়, তার রুট পারমিট ক্যানসেল হবে, ফাইনের ব্যবস্থা থাকবে এবং আগামীতে রুট পারমিট থাকবে কি না, পাবে কি না সেটা নিয়েও জবাবদিহি করতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে রবিউল আরও বলেন, ‘আপনি জেনে খুশি হবেন, গতবার আমরা কিন্তু রেলের ভাড়া বাড়াইনি। এবারও এখন পর্যন্ত বাড়ানোর চিন্তা করছি না।’

আগামী পরশু বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে এবং ওই দিনই লাঞ্চ ভাড়া নিয়ে লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা হবে, জানান তিনি।

Related Articles

Latest Posts