ভাত চুরির অভিযোগে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা: গ্রেপ্তার ৩

খুলনা শহরে চুরির অভিযোগে মো. আজমুল হোসেনকে (২২) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।  

পৃথক অভিযানে পিরোজপুর, খুলনা ও বরিশাল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে আজ মঙ্গলবার জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

গ্রেপ্তাররা হলেনএকটি ব্যাংকের ক্যাশিয়ার হাসনাত হাবিব রিফাত (৩০), বেসরকারি চাকরিজীবী তারেক হাসান ওরফে রুবেল (৩৫) ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সাবেক শিক্ষার্থী প্রতাপ সরকার।

আজ মঙ্গলবার ভোররাত আড়াইটার দিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানার কুড়িয়ানা-আদাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিফাত গ্রেপ্তার করা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে এসআরবি। তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গুনেরগাতি গ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে।

এসআরবি আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। 

খুবির খাজা (খানজাহান আলী) হল থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি।

গ্রেপ্তারের পর তাদের দুজনকে  কেএমপির হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয় বলেও জানিয়েছে এসআরবি।

এছাড়া, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আজ বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বরিশালের উজিরপুর উপজেলা থেকে প্রতাপকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাকে খুলনায় আনা হচ্ছে।

কেএমপির (দক্ষিণ) উপ-কমিশনার রেজাউর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘রিফাতের নাম এজাহারে নেই। তবে সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আজমুলের নিহত হওয়ার খবর জানতে পারে পুলিশ। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় সলুয়া গ্রামে। তার বাবার নাম মো. কুতুব উদ্দিন।

খুবির খাজা হলের বিপরীত পাশের গলিতে পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলায় একটি মেসে ভাড়া থাকতেন আজমল। ওই ভবনটিতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী থাকেন।

পুলিশ জানায়, আজমুলকে প্রথমে চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে রাত দেড়টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

এ ঘটনায় আজমুলের বাবা মো. কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নোট: প্রতিবেদনটি সন্ধ্যা ৭টায় আপডেট করা হয়েছে

Related Articles

Latest Posts