আফগানিস্তানকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জিতেও র্যাঙ্কিংয়ে সুখবর পায়নি ভারত। শ্রীলঙ্কাকে একই ব্যবধানে হারিয়ে ইংল্যান্ড আবারও টি-টোয়েন্টির এক নম্বর দল হয়ে গেছে। ২০২৬ সালে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষস্থান হারাল ‘মেন ইন ব্লু’। আর দুই দলের রেটিং পয়েন্ট সমান হলেও ম্যাচসংখ্যার হিসাবেই ভারতের ওপর উঠে গেছে ইংল্যান্ড।
শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বে আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ভারত র্যাঙ্কিংয়ে ২৬৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছিল শীর্ষে। ইংল্যান্ডেরও রেটিং পয়েন্ট ২৬৯। তবে ভারতের ৬৪ ম্যাচে মোট পয়েন্ট ১৭.২০১, বিপরীতে মাত্র ৪১ ম্যাচে ইংল্যান্ডের মোট পয়েন্ট ১১.০২১। এই হিসাবেই র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে গেছে হ্যারি ব্রুকের দল।
চলতি বছরে এর আগে ইংল্যান্ডের কাছে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে হেরেছিল ভারত। সেই সিরিজের পরও একবার শীর্ষস্থান হারিয়েছিল তারা। এবার শ্রীলঙ্কাকে তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ভারতের জায়গা দখল করল ইংল্যান্ড।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে হয়েছিল রানের বন্যা। তবে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারত শেষ পর্যন্ত জয় পায়। পরে শিরোপা জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নও হয় তারা।
অন্যদিকে সাদা বলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্রুকের অধীনে দুর্দান্ত ছন্দে আছে ইংল্যান্ড। তার নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত ২৬টি টি-টোয়েন্টির মধ্যে ২৩টিতেই জিতেছে দলটি। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে তারা।
শ্রেয়াসের অধিনায়কত্বের শুরুটা অবশ্য এতটা স্বস্তির ছিল না ভারতের। সূর্যকুমার যাদবের কাছ থেকে নেতৃত্ব পাওয়ার পর প্রথম দুই সিরিজেই বড় ধাক্কা খায় ভারত। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ০-২ ব্যবধানে হারের পর ইংল্যান্ডের কাছে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে হেরে যায় ০-৪ ব্যবধানে।
এরপর অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায় ভারত। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩-০ এবং পরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় তারা। এবার এশিয়ান গেমসে নিজেদের সোনার পদক ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘মেন ইন ব্লু’।
শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজ জয়ের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক ব্রুক পেয়েছেন সিরিজসেরার পুরস্কারও। সিরিজের প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটার। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৮ উইকেটে হারানোর পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ব্রুক বলেন, মূল বিষয় ছিল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া।
ব্রুক বলেন, ‘সবকিছু আসলে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ওপর নির্ভর করে। আমরা এমন একটি দল হতে চাই, যারা পরিস্থিতি আমাদের পক্ষে না থাকলেও ম্যাচ জেতার উপায় বের করতে পারে। সেটি হয়তো সব সময় খুব সুন্দর দেখাবে না, কিন্তু আমরা সেটি দারুণভাবে করতে পারছি। আমরা অবশ্যই সঠিক দিকেই এগোচ্ছি।’
দলের অন্য খেলোয়াড়দের অবদানও আলাদা করে তুলে ধরেছেন ব্রুক, ‘এই সিরিজে সবাই নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে, বিশেষ করে যারা নিয়মিত খেলার সুযোগ পায়নি। যেমন সনি বেকার, দুটি ম্যাচে পাওয়ারপ্লেতে তিন ওভার করে বল করা অসাধারণ ব্যাপার। শুধু তা-ই নয়, পাওয়ারপ্লেতে অনেকেই যেভাবে রান করেছে, উইকেট নিয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।’
‘লিয়াম ডসন আবারও দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে, জস বাটলারও করেছে। পুরো দলের কথাই বলা যায়। আমরা পরিস্থিতির সঙ্গে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিচ্ছি। প্রতিটি ম্যাচই কিছুটা ভিন্ন ছিল এবং আমরা পরিস্থিতি অনুযায়ী দারুণ ক্রিকেট খেলেছি,’ যোগ করেন তিনি।

