ক্রিকেটপ্রেমী ইমন হয়ে গেলেন সিনেমার নায়ক

ঢাকাই সিনেমার নায়ক ইমনের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল মডেলিং দিয়ে। এরপর টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে একসময় সিনেমায় নিয়মিত হন। ‘দারুচিনি দ্বীপ’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক। ‘গহীনে শব্দ’ তাকে পরিচিতি এনে দেয়। ‘লালটিপ’ তার ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রশংসিত সিনেমা। এরপর অভিনয় করেছেন আরও অনেক সিনেমায়।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেছেন ইমন। জানিয়েছেন, অভিনয় কিংবা মডেলিং তার পূর্বপরিকল্পনায় ছিল না। ক্রিকেটই ছিল তার সবচেয়ে বড় নেশা।

ইমন বলেন, ‘খেলা নিয়েই মেতে থাকতাম। খুব ভালো ক্রিকেট খেলতাম। সিনিয়রদের সঙ্গে যেমন খেলতাম, জুনিয়রদের সঙ্গেও খেলতাম। বাসা থেকে অবশ্য চাইতেন, ভালো ফলাফল করতে হবে। তাই অভিনয় করব কিংবা মডেলিং করব—এমন ভাবনা কখনোই ছিল না।’

নায়ক না হলে কী করতেন? ইমনের উত্তর, ‘নায়ক না হলে হয়তো ক্রিকেট নিয়েই থাকতাম। অথবা পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করতাম।’

একদিন নটরডেম কলেজে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে ইমন দেখেন, সেখানে শুটিং চলছে। মানুষের ভিড়। কৌতূহল নিয়ে দাঁড়িয়ে শুটিং দেখতে থাকেন। সেদিন তারিক আনাম খান নির্দেশিত একটি বিজ্ঞাপনের শুটিং চলছিল।

ইমন বলেন, ‘সেই যে একটু একটু করে ভালো লাগা শুরু হলো, যা এখনো আছে গভীরভাবে।’

এরপর ফটোশুট করিয়ে ছবি নিয়ে কয়েকটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় যান। আফজাল হোসেনের অফিসেও ছবি জমা দেন। একদিন বাসার নম্বরে ফোন আসে।

ইমন বলেন, ‘ফোন করার পর পাগল হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। সে কী উত্তেজনা! বলে বোঝানো যাবে না। এরপর আফজাল হোসেন ভাইয়ের অফিসে যাই। এভাবেই আমার মডেলিংয়ে যাত্রা।’

শুরুতেই দেশের বাইরে বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের সুযোগ পান ইমন। দ্রুত পাসপোর্ট ও ভিসা করে শুটিং করতে যান। প্রথম পারিশ্রমিক হিসেবে পান ১০ হাজার টাকা।

‘দশ হাজার টাকা পেয়েছিলাম তখন। সে কী আনন্দ! আমার জন্য অনেক আনন্দের ছিল। এরপর কয়েকটি জায়গা থেকে পরপর ডাক পেতে থাকি।’

এরপর নাটকেও অভিনয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করে।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে একজন পরিচালকের সিনেমার মহরত করেছিলেন ইমন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি আর হয়নি। মন খারাপ হলেও ভেঙে পড়েননি।

এরপর বাংলালিংকের ‘দেশ ২’ বিজ্ঞাপনটি তার ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আনে। ঈদে প্রচারিত বিজ্ঞাপনটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়।

ইমন বলেন, ‘কী যে সাড়া পেলাম! ছোট-বড় সবাই ওই কাজটির প্রশংসা করেছেন। আমাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।’
এর কিছুদিন পর একক নায়ক হিসেবে সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পান। ‘এক বুক ভালোবাসা’ ছিল একক নায়ক হিসেবে তার প্রথম সিনেমা। এ সুযোগের জন্য গীতিকার কবির বকুলের প্রতি কৃতজ্ঞ ইমন।

তিনি বলেন, ‘একদিন কবির বকুল ভাই ফোন করে বলেন, “ইমন, তুমি কোথায়? আমার বাসায় চলে এসো।” তাঁর বাসাতেই পরিচালকের সামনে চুক্তি হয়। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার দিন প্রথম ৫০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। এই ঘটনাটিও আমার মনে থাকবে।’

এরপর একে একে অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছেন ইমন। পেয়েছেন দর্শকের ভালোবাসাও। ক্রিকেট নিয়ে মেতে থাকা সেই তরুণ শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছেন ঢাকাই সিনেমার পরিচিত নায়ক।

Related Articles

Latest Posts