জাপানে যেমন আছেন অপর্ণা ঘোষ

অপর্ণা ঘোষ কয়েক বছর ধরে জাপানে বসবাস করছেন। সেখানে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন তিনি। তার স্বামী ও বাবাও জাপানে থাকেন। বাংলাদেশে থাকাকালে অভিনয় ও মডেলিংয়ে কাজ করেছেন অপর্ণা। মঞ্চনাটক দিয়ে শুরু করে পরে টেলিভিশন নাটক ও সিনেমায় অভিনয় করেন।

মৃত্তিকা মায়া ও গণ্ডি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। জাপানে বর্তমান জীবন, অভিনয়জীবন ও বাংলাদেশকে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

No photo description available.

অপর্ণা বলেন, ‘বাবা থিয়েটার করতেন। স্কুলজীবন থেকেই তার সঙ্গে থিয়েটার দেখতে যেতাম, রিহার্সেল দেখতাম। তখন থেকেই মঞ্চনাটকের প্রতি একধরনের আগ্রহ তৈরি হয়। পরে কোর্ট মার্শাল নাটক দিয়ে মঞ্চে অভিনয় শুরু করি।’

মঞ্চের পর টেলিভিশনে কাজ শুরু করেন অপর্ণা। তার প্রথম নাটক ভালোবাসি তবুও। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন অপূর্ব। আর মায়ের চরিত্রে ছিলেন দিলারা জামান। প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল বেশ নার্ভাস হওয়ার।

প্রথম নাটক প্রচারের কিছুদিন পর একটি বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেন অপর্ণা। ক্যারিয়ারে সেটিই হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এসিআইয়ের সেই বিজ্ঞাপনটি পরিচালনা করেছিলেন অমিতাভ রেজা চৌধুরী। বিজ্ঞাপনটি প্রচারের পর দ্রুত পরিচিতি পান।

No photo description available.

এরপর হাউজফুল ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান অপর্ণা। এনটিভিতে প্রচারিত নাটকটিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন ফারিয়া চরিত্রে। চরিত্রটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে দর্শকেরাও তাঁকে ‘ফারিয়া’ নামে ডাকতে শুরু করেছিলেন।

গাজী রাকায়েত পরিচালিত মৃত্তিকা মায়া সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান অপর্ণা ঘোষ।
দ্বিতীয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান গণ্ডি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য। এই সিনেমায় তার সহশিল্পী ছিলেন সুবর্ণা মুস্তাফা ও ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী। তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে বিশেষভাবে মনে রেখেছেন অপর্ণা।

তিনি বলেন, ‘সুবর্ণা মুস্তাফা এবং সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা অনেক আনন্দের ছিল। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।’

ভুবন মাঝি সিনেমাতেও অভিনয় করে প্রশংসিত হন অপর্ণা। মুক্তিযুদ্ধের গল্পের এই সিনেমাটি তার নিজেরও খুব পছন্দের।

No photo description available.

অপর্ণা বলেন, ‘ভুবন মাঝি আমার ভীষণ পছন্দের সিনেমা। মুক্তিযুদ্ধের গল্পের নাটক কিংবা সিনেমার প্রতি আমার সবসময়ই বিশেষ দুর্বলতা ছিল। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প পরিবারের সদস্যদের কাছে শুনে শুনেই বড় হয়েছি।’

সিনেমাটিতে ফরিদা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। চরিত্রটি তাকে বিশেষ আনন্দ দিয়েছে বলেও জানান অপর্ণা।

অপর্ণার অভিনয়জীবনে মা-বাবার অবদান অনেক। ছোটবেলা থেকেই তারা মেয়েকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রেখেছিলেন। আর্ট স্কুলে যাওয়া, গান শেখা, নাচ শেখা—সবকিছুর পেছনেই ছিল তাদের উৎসাহ।

অপর্ণা বলেন, ‘মা-বাবার অবদান অনেক। ছোটবেলায় যদি তাদের কাছ থেকে সুন্দর পরিবেশ না পেতাম, তাহলে হয়তো অভিনয় করা হতো কি না জানি না। ওই বয়সে আর্ট স্কুলে যাওয়া, গান শেখা, নাচ শেখা—সবই হয়েছে মা-বাবার জন্য। তারা আমাকে সুন্দর একটা পরিবেশ ও সুন্দর জায়গা করে দিয়েছেন। এটাই অনেক বড় ব্যাপার।’

No photo description available.

তবে মায়ের উৎসাহ ছিল সবচেয়ে বেশি। অপর্ণার ভাষায়, ‘বিশেষ করে মা সবসময় চাইতেন আমি এসব করি। বাবা মাঝে মাঝে না করতেন, কিন্তু মা চাইতেন।’

কয়েক বছর ধরে জাপানে বসবাস করছেন অপর্ণা। সেখানে শিক্ষকতা করছেন তিনি। স্বামী ও বাবাও জাপানে থাকেন। নতুন দেশে নিজের মতো করে জীবন গুছিয়ে নিলেও বাংলাদেশের প্রতি টান এতটুকু কমেনি।

অপর্ণা বলেন, ‘এখানে শিক্ষকতা করছি। ভালো আছি। কিন্তু প্রতিদিন বাংলাদেশকে মিস করি। প্রতিমুহূর্তে মিস করি। হাজার হলেও আমার দেশ তো। দেশকে খুব ভালোবাসি। এখানে ভালো আছি, তারপরও নিজের দেশকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।’

অভিনয়জীবন মিস করেন কি না—জানতে চাইলে অপর্ণার সরল উত্তর, ‘প্রচণ্ড মিস করি অভিনয়জীবন। প্রতিনিয়ত মিস করি।’

Related Articles

Latest Posts