মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের ফাঁসির আদেশ

জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

আট মাস ধরে বিচারকাজ চলার পর আজ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয় আসামি হলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল এবং নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে ওবায়দুল কাদের ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সহিংসভাবে দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, অভিযুক্তদের জ্ঞাতসারে ও সংশ্লিষ্টতায় সাধারণ জনগণের ওপর ব্যাপক ও পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি আন্দোলনকারী নিহত এবং ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন।

প্রসিকিউশন আরও অভিযোগ করেছে, এই আন্দোলনে দলের সহিংস অবস্থান ও পদক্ষেপ নিতে বাহাউদ্দিন নাছিম সহায়তা করেছিলেন। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং হত্যা ও সহিংসতার খবর প্রচারে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

যুবলীগের নেতাকর্মীদের মাঠে নামানোর জন্য শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন নিখিলকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, নিখিল নিজে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, সশস্ত্র ক্যাডারদের জড়ো করা এবং হামলার সমন্বয়ের জন্য ছাত্রলীগের সাদ্দাম ও ইনানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

Related Articles

Latest Posts