একটার পর একটা সিরিজ, টুর্নামেন্ট আর লম্বা স্পেল, টানা ক্রিকেটে ক্লান্তি জমেছে হাসান মাহমুদের শরীরে। সামনে আরও ব্যস্ত সূচি, তাই ঝুঁকি না নিয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে তার অভিযান আগেভাগেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। কেন্টের হয়ে দারুণ ছন্দে থাকা এই পেসারকে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে এশিয়ান গেমসের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার জন্য।
আগামী রোববার মিরপুরে শুরু হচ্ছে এশিয়ান গেমসের ক্যাম্প। সেই ক্যাম্পে যোগ দিতে হাসানকে শিগগিরই দেশে ফিরতে হচ্ছে। অথচ শুরুতে কেন্টের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় বিভাগে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলার অনুমতি পেয়েছিলেন তিনি। চলতি মৌসুমে চার ম্যাচেই ২৬ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন এই পেসার। কেন্টের মৌসুমে আরও দুটি ম্যাচ বাকি থাকলেও সেগুলোতে আর খেলবেন না হাসান।
বাংলাদেশ দলের ক্রিকেট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা শাহরিয়ার নাফিস দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছেন, ‘এপ্রিলের দিকে কাউন্টি ক্রিকেটে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সে টানা ক্রিকেট খেলছে। এরপর দুটি ম্যাচ খেলে জিম্বাবুয়েতে গিয়ে একটি টেস্ট খেলেছে। সেখান থেকে ব্লাস্ট ও এলপিএলে খেলেছে। এলপিএলের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলেছে। ওই দুটি টেস্টের পর আবার দুটি কাউন্টি ম্যাচ খেলেছে এবং প্রতি ম্যাচে অনেক বেশি ওভার বোলিং করেছে।’
এত ব্যস্ততার পর সামনে আরও বড় সূচি থাকায় হাসানের ওয়ার্কলোড নিয়ে চিন্তিত বিসিবি। শাহরিয়ার বলেন, ‘এশিয়ান গেমস, আফগানিস্তান সফর, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা সফর এবং ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আছে। সে যতটা ক্রিকেট খেলেছে এবং সামনে আমাদের যে সূচি আছে, সব মিলিয়ে তার ওয়ার্কলোড অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে। তার এখন একটা বিরতি দরকার। এ কারণেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাকে দেশে ফিরতে হবে।’
হাসানকে কেন্টে খেলার অনুমতি দেওয়ার সময় অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। তখন তাঁকে শুধু টেস্ট দলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ ও কাউন্টি—দুই জায়গাতেই ভালো পারফরম্যান্স করে জাতীয় দলে তাঁর সুযোগের পরিধি বেড়েছে। ফলে সামনে তাঁকে আরও বেশি ক্রিকেট খেলতে হতে পারে।
শাহরিয়ার বলেন, ‘যখন তাকে মূলত অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছিল, তখন সে শুধু টেস্ট দলের অংশ ছিল। বাংলাদেশ এবং কাউন্টি ক্রিকেটে সে ভালো পারফর্ম করছে, যা বাংলাদেশের হয়ে তার সুযোগও বাড়িয়ে দিচ্ছে।’
হাসানের কাউন্টি মৌসুম শেষ করার সিদ্ধান্তটি তাই শুধু এশিয়ান গেমসের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার বিষয় নয়। সামনে থাকা ব্যস্ত সূচির আগে তাঁকে বিশ্রাম ও ফিটনেস নিয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়াটাই বিসিবির মূল লক্ষ্য। শাহরিয়ার বলেন, ‘সে এখন ফিরছে এবং এই মৌসুমে আর খেলবে না। তাদের দুটি ম্যাচ বাকি আছে। সে এশিয়ান গেমসে যাবে। কিন্তু এই মুহূর্তে তার বিশ্রাম দরকার, পাশাপাশি ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে হবে। সবকিছু বিবেচনা করে বিসিবির মনে হয়েছে, তার ওয়ার্কলোড অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে।’
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা বাংলাদেশ ‘এ’ দলের যেসব ক্রিকেটার এশিয়ান গেমসের দলে আছেন, তাঁরাও দেশে ফিরে ক্যাম্পে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয়, রিশাদ হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন রয়েছেন সেই তালিকায়।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষ করেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। শনিবার পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ১-০ ব্যবধানে শেষ করেছে তারা। এরপর দেশে ফিরে এশিয়ান গেমসের ক্যাম্পে যোগ দেবেন এ দলের ক্রিকেটাররা। হাবিবুল বলেন, ‘এ দলের ওই খেলোয়াড়েরা সম্ভবত দুই দিন পর ক্যাম্পে যোগ দেবে।’
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর জাপানের উদ্দেশে বাংলাদেশ দলের রওনা হওয়ার কথা। এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু করবে বাংলাদেশ। ২৯ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার ফাইনালে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি হবে তারা। ওই গ্রুপে রয়েছে হংকং, মালয়েশিয়া ও ওমান।

