ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক মো. আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি জহুরুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।
আজ সোমবার দুপুরে জহুরুলকে ঢাকার আদালতে পাঠানো হয়।
সাভার মডেল থানার পুলিশ জানায়, গত শনিবার রাতে আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে জহুরুলকে (৩২) সাভারের নামাবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আলতাফের স্ত্রী শিউলি বেগম গতকাল রোববার সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় জহুরুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তা হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামি জহুরুলকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আজ আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্য আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব)- ৪ ও ১০-এর একাধিক দল মুন্সিগঞ্জ ও আমিনবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার আরও আট আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত মো. আলতাফ হোসেন (৫৮) ডিএমপিতে এসবির উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি বরদেশী এলাকায় ভাড়া থাকতেন। পাশাপাশি ওই এলাকায় নিজের ৫ শতাংশ জমিতে টিনশেডের একটি কারখানায় মিনি গার্মেন্টস পরিচালনা করতেন।
পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সাইফুল আলম বলেন, শনিবার কারখানার কাছেই ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন আলতাফ। পথে তিনি একটি প্রাইভেটকারে থাকা কয়েকজন যুবককে এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালককে মারধর করতে দেখেন। এ সময় আলতাফ প্রতিবাদ করলে ওই যুবকরা তাকেও মারধর করেন। প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে দৌড়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে পড়েন।
পরে ওই যুবকরা আরও ১৫-২০ জনকে ডেকে এনে কারখানায় হামলা চালায়। তারা কারখানায় ঢুকে মেশিন ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ভাঙচুর করে এবং আলতাফ ও তার ছেলে মো. আরিফকে পিটিয়ে চলে যায়। পরে প্রতিবেশীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ওসি সাইফুল আলম।

