গাজীপুর সাফারি পার্কে গাড়িতে ময়লা-আবর্জনা কেন জানতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারী পর্যটক, তার দুই ছেলে ও গাড়িচালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের কর্মীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় শনিবার রাত ১০টার দিকে ভুক্তভোগী পর্যটক সালমা মোস্তারী শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন।
অভিযোগের পর পার্কের আউটসোর্সিং কর্মী ফরহাদ মো. মুমিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী।
শনিবার বিকেল ৩টার দিকে গাজীপুর সাফারি পার্কে এ ঘটনা ঘটে।
সালমা মোস্তারী (৪৪) তার লিখিত অভিযোগে বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি শনিবার সাফারি পার্কে যান। বিভিন্ন বন্য প্রাণী দেখার জন্য তারা পার্কের পর্যটন বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। বাসে ওঠার সময় ভেতরে ময়লা-আবর্জনা থাকার বিষয়টি তারা পার্কের কর্মীদের জানান।
এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কর্মীরা তাদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেন বলে অভিযোগ করেন সালমা। এর প্রতিবাদ করলে তাদের বহনকারী বাসটি নির্ধারিত স্থানে না থামিয়ে পার্কের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।
সালমার অভিযোগ, সেখানে স্টিলের লাঠি দিয়ে তাদের মারধর করা হয়। এতে তিনি, তার দুই ছেলে মো. জারিফ (১৫) ও মো. মাহিন (১৭) এবং গাড়িচালক মো. রাসেল (৩৭) আহত হন।
সালমা আরও অভিযোগ করেন, এসময় তার গলায় থাকা প্রায় সাড়ে তিন ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের ব্যাগে থাকা ৮০ হাজার টাকা চুরি করে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া, তার ও দুই ছেলের আইফোন কেড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানান সালমা।
তিনি বলেন, ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে তাদের সাফারি পার্কের একটি অফিসকক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে কোনো উপায় না পেয়ে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ সাফারি পার্কে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। পরে সালমা মোস্তারীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় তাদের একজন স্টাফ আহত হওয়ার পর পর্যটকদের পার্ক অফিসে এনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছিল। সেখানেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
বন কর্মকর্তা ইকবাল হোছাইন চৌধুরী ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমাদের ফরহাদ মো. মুমিন নামের একজন স্টাফকে আহত করা হয়েছে। তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘স্টাফকে আহত করার পর বাসে থাকা ওই পর্যটকদের পার্ক অফিসে আনা হয় আলোচনা করার জন্য। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এ ঘটনায় বন বিভাগের আউটসোর্সিং স্টাফ ফরহাদ মো. মুমিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’
বন কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমাদের পক্ষ থেকে সরি বলা হয়েছে।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ এবং ২০ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ওই নারী একটি মামলা করেছেন।’
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গাড়িতে দুই পক্ষই খুব অ্যাগ্রেসিভ ছিল। তবে পর্যটকের অভিযোগ শুনে বনের দায়িত্বে থাকা স্টাফের বিষয়টি স্মার্টলি হ্যান্ডেল করা উচিত ছিল।’

