পাবনার ঈশ্বরদীতে কাফনের কাপড় জড়িয়ে ও লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়া সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পীকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, বাপ্পীকে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদে থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ লোকজন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা মেহেদী হাসান গ্রুপের অনুসারীরা।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জুবায়ের হোসেন বাপ্পী (৩৫) ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও ঈশ্বরদী পৌরসভার বকুলের মোড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক।
ওসি আশাদুর রহমান বলেন, মুচলেকা নিয়ে বাপ্পীকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলছি। তারা চলে গেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এর আগে গতকাল সোমবার বিকেলে বাপ্পী তার নিজ বাড়ি থেকে শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে ও হাতে লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে মহড়া শুরু করেন।
ঈশ্বরদী থানার কাছাকাছি পৌঁছালে অপর একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে পাল্টা মহড়া দেয়। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে থানায় গিয়ে বাপ্পী তার লাইসেন্স করা অস্ত্রটি জমা দেন। পরে গতকাল সন্ধ্যায় বাপ্পীকে আটক করে পুলিশ।
গতকাল পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে বলেন, ‘বাপ্পী মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে থানায় অস্ত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে।’
তবে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাসুদ খন্দকার বলেন, ‘আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের দলের হলেও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, তাই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

