ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ছাত্রীদের প্ল্যাটফর্ম ‘অবরোধবাসিনী’। এ সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল রোববার উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পর এ আলটিমেটাম ঘোষণা করে অবরোধবাসিনী।
স্মারকলিপিতে তিনটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে। রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হলে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, ছাত্রীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা হল খোলা রাখা এবং ছাত্রীদের নারী স্বজনদের হলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া।
এ ছাড়া বৈধ পরিচয়পত্র থাকলে অনাবাসিক ছাত্রী ও অন্য হলের ছাত্রছাত্রীদের যেকোনো হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। অন্য হলের কোনো ছাত্রী অনুমতি নিয়ে রাতে কোনো হলে থাকতে চাইলে সেই সুযোগ দেওয়ার দাবিও করেছে প্ল্যাটফর্মটি।
অবরোধবাসিনী বলেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ শতাংশ ছাত্রী আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নিয়মিত হলের ফি দেওয়ার পরও অনাবাসিক ছাত্রীদের হলে ঢুকে বিশ্রাম নেওয়া, খাওয়া বা রাতে থাকার সুযোগ না দেওয়ার নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।
ছাত্রীদের মা, বোনসহ নারী স্বজনদের হলে প্রবেশের ক্ষেত্রেও যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তার সমালোচনা করেছে অবরোধবাসিনী।
প্ল্যাটফর্মটির দাবি, নিরাপত্তার কথা বলে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হলে প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা উল্টো রাতে চলাফেরার কারণে ছাত্রীদের হয়রানির সুযোগ তৈরি করছে।
গত ৩১ জুলাই নারী আবাসিক হলগুলোর ফটকে দেয়াললিখনের মাধ্যমে এ আন্দোলন শুরু হয়। পরে ছাত্রীরা সংবাদ সম্মেলন করেন এবং দাবিগুলো আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সোমবার বিকেলে ক্যাম্পাসে সমাবেশেরও ডাক দিয়েছে অবরোধবাসিনী।

