‘মুস্তাফিজুর রহমান ভাই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠানের মতো’

নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা আজিজুল হাকিম। অসংখ্য নাটকে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। তার অভিনয়জীবনের শুরুতে বড় পরিচিতি এনে দেয় বিটিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক সময় অসময়। নাটকটির প্রযোজক ও পরিচালক ছিলেন খ্যাতিমান নির্মাতা মুস্তাফিজুর রহমান।

পরে তার পরিচালনাতেই আজিজুল হাকিম অভিনয় করেন জীবনের প্রথম চলচ্চিত্র শঙ্খনীল কারাগারে।

সদ্যপ্রয়াত এই গুণী নির্মাতাকে স্মরণ করে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন আজিজুল হাকিম।

তিনি বলেন, আমার অভিনয় জীবনে যারা সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন, তাদের একজন মুস্তাফিজুর রহমান ভাই। অভিনেতা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে তার ভূমিকা অনেক। দর্শকদের কাছাকাছি পৌঁছানোর পেছনেও তার অবদান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মুস্তাফিজুর রহমান ভাই ছিলেন বিটিভির অন্যতম সেরা প্রযোজক। একসময় তিনি নাটক বিভাগের প্রধান ছিলেন। পরে মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন। তার পরিচালনায় অনেক নাটকে অভিনয় করেছি। সেই নাটকগুলোই আমাকে দর্শকদের কাছে পরিচিত করে তোলে।

জনপ্রিয় ধারাবাহিক সময় অসময়ের কথা উল্লেখ করে আজিজুল হাকিম বলেন, মামুনুর রশীদের লেখা ‘সময় অসময়’ ছিল বিটিভির একটি সাড়া জাগানো নাটক। নাটকটি সব বয়সের দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছিল। এই নাটক আমার অভিনয়জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

তিনি বলেন, ‘একটি সেতুর গল্প নাটকটিও খুব আলোচিত হয়েছিল। সেটির প্রযোজকও ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান ভাই। আমার অভিনীত এক ঘণ্টার নাটকগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম সেরা। আরও অনেক নাটকে তার সঙ্গে কাজ করেছি। তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠানের মতো। তার হাত ধরে বিটিভিতে অনেক কালজয়ী নাটক নির্মিত হয়েছে।

মুস্তাফিজুর রহমানের ব্যক্তিত্বের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি খুব কম কথা বলতেন। কিন্তু তার কাছে গিয়ে সব কথা বলা যেত। নিজের ভাবনা শেয়ার করা যেত। তিনি মন দিয়ে শুনতেন। তারপর সুযোগ বুঝে কাজ দিতেন। তিনি ছিলেন প্রবল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন মানুষ।

প্রথম সিনেমায় অভিনয়ের স্মৃতি মনে করে আজিজুল হাকিম বলেন, নাটক করতে করতেই একদিন তিনি আমাকে শঙ্খনীল কারাগার সিনেমার জন্য ডাকলেন। সেটিই ছিল আমার জীবনের প্রথম সিনেমা। তিনি বললেন, মন্টু চরিত্রটি তুমি করবে। আমি এক মুহূর্তও দেরি করিনি। সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। আজও ভাবতে ভালো লাগে, আমার অভিনীত প্রথম সিনেমার পরিচালক ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান ভাই।

তিনি আরও বলেন, মন্টু চরিত্রের জন্য এখনো মানুষের প্রশংসা পাই। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি ছিল অসাধারণ। এর নেপথ্যের মূল কারিগর ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান ভাই। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

Related Articles

Latest Posts