‘মুস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি’

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ চম্পা। রূপালি পর্দায় অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি একসময় তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নাটকেও নিয়মিত কাজ করেছেন। খ্যাতিমান প্রযোজক ও পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমানের পরিচালনায় একাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন। হুমায়ূন আহমেদের শঙ্খনীল কারাগার উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে সদ্যপ্রয়াত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মুস্তাফিজুর রহমানকে স্মরণ করেন চম্পা।

তিনি বলেন, ‘বিটিভিতে মুস্তাফিজুর রহমান সাহেবের পরিচালনায় বেশ কয়েকটি ভালো নাটকে অভিনয় করেছি। এই মুহূর্তে ‘দ্য পার্ল’ নাটকের কথা মনে পড়ছে। নাটকটি বেশ আলোচিত হয়েছিল। আসলে মুস্তাফিজুর রহমান ভাই ছিলেন অসাধারণ মেধাবী ও গুণী একজন মানুষ। তার কাজের ধরণ ছিল একেবারেই স্বতন্ত্র। তিনি এমনভাবে কাজ করতেন, যা দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যেত এবং ব্যাপক সাড়া ফেলত।

মুস্তাফিজুর রহমানের ব্যক্তিত্ব প্রসঙ্গে চম্পা বলেন, ‘তিনি খুব কম কথা বলতেন। কখন তিনি রাগ করেছেন, আর কখন করেননি—তা বোঝা বেশ কঠিন ছিল। তবে শুটিংয়ের সময় কণ্ঠস্বর শুনেই আমরা অনেক সময় তার মনের অবস্থা বুঝে নিতাম। একটি বিষয় সব সময় দেখেছি—তিনি মানুষকে সম্মান করতেন, স্নেহ করতেন। কাউকে কখনও ছোট করে কথা বলতেন না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত জ্ঞানী ও সংস্কৃতিমনা মানুষ।’

বিটিভিতে কাজের পরিবেশের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, শুটিং শুরুর আগে আমাদের নিয়ে দীর্ঘ সময় রিহার্সাল করাতেন। একটি নাটক ভালোভাবে নির্মাণের জন্য তিনি অনেক পরিশ্রম করতেন। প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরই শুটিং শুরু করতেন। তার পরিচালনায় যত নাটকে অভিনয় করেছি, প্রায় সবই দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে।

পরে চলচ্চিত্রে ব্যস্ত হয়ে পড়ার কথাও উল্লেখ করেন চম্পা। তিনি বলেন, একসময় সিনেমার কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত হয়ে পড়ি। সেই সময় মুস্তাফিজুর রহমান ভাই আমাকে শঙ্খনীল কারাগার সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। আমি এক কথায় রাজি হয়ে যাই। কারণ তার প্রতি আমার অগাধ আস্থা ছিল। সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে দারুণ প্রশংসা পায়।

শঙ্খনীল কারাগার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সিনেমাটিতে আমার সহশিল্পী ছিলেন জাফর ইকবাল ও ডলি জহুর। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত গল্পটি ছিল অসাধারণ। শুটিংয়ের পুরো সময়টা আমি খুব উপভোগ করেছি। মুস্তাফিজুর রহমান ভাই প্রতিটি দৃশ্য অত্যন্ত যত্ন নিয়ে করিয়েছেন। তার নিখুঁত নির্দেশনায় সত্যিই চমৎকার একটি কাজ হয়ে উঠেছিল।

শেষে প্রয়াত এই নির্মাতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে চম্পা বলেন, সত্যি কথা বলতে, মুস্তাফিজুর রহমান ভাই মানুষ হিসেবে অসাধারণ ছিলেন। তিনি ছিলেন বড় মনের মানুষ। সব সময় সৃষ্টিশীল কাজ নিয়েই ভাবতেন। তার সঙ্গে আমার অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সবচেয়ে বড় কথা, তার কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। সেই শিক্ষাগুলো আজও আমার জীবন ও কর্মপথে কাজে লাগে। তার মৃত্যু আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য বড় ক্ষতি। তার প্রতি রইল আমার গভীর শ্রদ্ধা।

Related Articles

Latest Posts