জিম্বাবুয়ে সফরে নাহিদ রানাকে নিয়ে কেন এই ঝুঁকি নেওয়া হলো? বাংলাদেশ ক্রিকেট অঙ্গনে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। সাইড স্ট্রেইনের চোটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন দেশের দ্রুততম পেসার। এরপরই শুরু হয়েছে আলোচনা—এই চোট কি চাইলেই এড়ানো যেত না?
দীর্ঘ ২৩ বছর পর হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের শক্তির মূল জায়গা ছিল পেস আক্রমণ। তাই রানাকে হারানো সফরকারীদের জন্য এক মস্ত বড় ধাক্কা। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম দুটি গতিশীল পেস আক্রমণের লড়াই হিসেবে এই সিরিজটি ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। সেই আবহেই হঠাৎ এমন দুঃসংবাদ।
শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, রানার বাঁ পাশের পাঁজরের পেশিতে দ্বিতীয় গ্রেডের টান লেগেছে। গত ১৭ জুলাই পাওয়া এই চোট থেকে সেরে উঠতে ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া সফরের মতো বড় মঞ্চের ঠিক আগে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজে রানার ওপর কেন অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হলো—টিম ম্যানেজমেন্টের সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন জোরালো প্রশ্ন উঠছে। তাও আবার এমন এক সময়ে, যখন তিনি টানা খেলে পারফর্ম করে আসছিলেন।
টিম ম্যানেজমেন্টের একাংশ বলছেন, ম্যাচ প্র্যাকটিসের প্রয়োজন ছিল। তবে হারারে টেস্টে জিম্বাবুয়ের কাছে পরাজয়ও রানাকে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নামানোর পেছনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।
বিসিবির টিম ম্যানেজমেন্টের এক কর্মকর্তা অবশ্য চোটের কারণটি অন্যভাবে দেখছেন, ‘রানার ওপর ওয়ার্কলোডের চাপ ছিল না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ও টেস্ট খেলেনি, তৃতীয় ওয়ানডেতেও বিশ্রামে ছিল। সমস্যাটা ম্যাচ প্র্যাকটিসের ছিল না। মূলত আমরা ম্যাচ হারছিলাম বলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে ওভারলোডের কোনো বিষয় ছিল না।’
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, রানার কাজের চাপ পরিমাপ করতে জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সেখানে সতর্কতার কোনো সংকেত পাওয়া যায়নি।
মে মাস থেকে চমৎকার ছন্দে থাকা রানা হুট করেই বাংলাদেশ পেস আক্রমণের মূল কাণ্ডারি হয়ে উঠেছিলেন। মে মাসে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দুটি টেস্টেই খেলেন ২৩ বছর বয়সী এই গতি তারকা। তার নিখুঁত পেস ও রিভার্স সুইংয়ে পাকিস্তান দল দিশেহারা হয়ে দুটি সেশনও টিকতে পারেনি। এরপর তিনি পাকিস্তান সুপার লিগের ফাইনালেও বল হাতে আলো ছড়ান।
এরপর দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুটি ওয়ানডে ও শেষ দুটি টি-টোয়েন্টিতে রানার গতির ঝড়ে নাকাল হন বিশ্বজয়ী অজি ব্যাটাররা। প্রথম ওয়ানডেতে ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সফরকারীদের কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই ডারউইন ও ম্যাকায়ে অজি দর্শকরাও উদগ্রীব হয়ে ছিলেন এই তরুণ তুর্কির তোপ দেখার জন্য।
জিম্বাবুয়েতে একমাত্র টেস্টে বিশ্রাম পেলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজে রানাকে একাদশে রাখা হয়। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বল করার সময় পিঠের বাঁ পাশে হাত দিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এই চোটের কারণে তিন ম্যাচের সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতেও খেলতে পারেননি তিনি। অবশ্য ম্যাচটি জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।
তবে পেছন ফিরে তাকালে স্পষ্ট মনে হয়, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল যেখানে আগেই সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করে রেখেছে, সেখানে জিম্বাবুয়ের মতো দলের বিপক্ষে সাদা বলের দ্বিপক্ষীয় সিরিজকে অতিরিক্ত অগ্রাধিকার দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বুমেরাং হয়েছে।
ইনজুরি আপডেট
শরিফুল ইসলাম
১৪ জুলাই পাওয়া বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের (গ্রেড ১) চোট থেকে দ্রুত সেরে উঠছেন।
২৯ জুলাই বোলিং শুরু করার কথা রয়েছে, আর ১২ আগস্টের দিকে হবে চূড়ান্ত ফিটনেস টেস্ট।
১৩ আগস্ট ডারউইনে প্রথম টেস্টে তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও, ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স পেলে ২২ আগস্ট ম্যাকায়ে দ্বিতীয় টেস্টে পাওয়া যেতে পারে।
লিটন দাস
বাঁ পায়ের বাছুর (কাফ) পেশির চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছেন।
সকালেই সিঙ্গাপুরে তার প্লাটিলেট-রিচ প্লাজমা (পিআরপি) থেরাপি সম্পন্ন হয়েছে।
২৮ জুলাই থেকে রানিং ও কন্ডিশনিং শুরু করবেন। ১৩ আগস্টের দিকে তার ফিটনেস পরীক্ষা করা হবে।
রিহ্যাব ঠিকঠাক শেষ করে ফিটনেস সার্টিফিকেট পেলে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে তাকে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
তানজিম হাসান সাকিব
নিতম্বের হাড় ফ্র্যাকচার হওয়ার পর এখনও রিহ্যাবে আছেন।
সাম্প্রতিক স্ক্যান ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি আরও ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ রিহ্যাবেই থাকবেন, এরপর আবারও স্ক্যান করা হবে।
মাঠে ফেরা নির্ভর করছে ফ্র্যাকচার সম্পূর্ণ ভালো হওয়ার ওপর। বছরের শেষের দিকে তাকে দলে দেখা যেতে পারে।

