কারারক্ষীদের চোখে ধুলো দিয়ে উধাও নারী কয়েদি

কারাগারের ভেতরে প্রায় ৪০ জন নারী বন্দির সঙ্গে কাজ করছিলেন ২১ বছর বয়সী কয়েদি মোছা. রিম্পা। ওই সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মেট্রনদের তদারকির ঘাটতি ছিল। আর সেই সুযোগে পালিয়ে যান রিম্পা। 

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিয়ম অনুযায়ী বিকেল ৫টার মধ্যে বন্দিদের লকআপে নেওয়ার কথা। তবে তার আগেই কোনো এক সময় পালিয়ে যান ওই নারী কয়েদি।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কারাগারের সাত কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন তিনজন মেট্রন (কারা পরিদর্শিকা) ও চারজন নারী কারারক্ষী। 

ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিয়মিত গণনার সময় কারা কর্তৃপক্ষ প্রথম বুঝতে পারে যে রিম্পা নিখোঁজ। সঙ্গে সঙ্গে কারাগারের ভেতরে সবকটি সেলে ও বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোথাও তার হদিস না মেলায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন।

দায়িত্বে এমন চরম অবহেলার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আজ শনিবার কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) ও মুখপাত্র জান্নাত-উল-ফারহাদ সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর গতকালই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, পলাতক কয়েদি রিম্পার বাড়ি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুর এলাকায়। ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি এই কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন।

ঘটনার পর গতকাল শুক্রবার বিকেলে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার বাদী হয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন জানান, কারাগার থেকে সাজাপ্রাপ্ত বন্দি পালানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে। পলাতক কয়েদিকে পুনরায় গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

Related Articles

Latest Posts