মানবাধিকারকর্মী জসওয়ান্ত সিং খালরার জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র সতলুজ (আগের নাম পাঞ্জাব ‘৯৫)-এ অভিনয়ের জন্য মাত্র ১ রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছেন জনপ্রিয় পাঞ্জাবি গায়ক ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন তথ্য জানিয়েছেন পরিচালক হানি ত্রেহান।
দ্য প্রিন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ত্রেহান বলেন, ‘দিলজিৎ না থাকলে এই সিনেমা হয়তো কখনোই তৈরি হতো না। ও একজন ভালো মনের মানুষ।’
পরিচালক জানান, শুরু থেকেই তার বিশ্বাস ছিল, খালরার চরিত্রে দিলজিৎ ছাড়া অন্য কাউকে ভাবা সম্ভব নয়। কোনো মূলধারার বলিউড তারকাকে নেওয়ার কথাও ভাবেননি তিনি।
ত্রেহানের ভাষায়, ‘আমি এমন একজন অভিনেতাকে চেয়েছিলাম, যে হবে পাঞ্জাবের মানুষ, সেই সমাজকে চেনে এবং চরিত্রটিকে নিজের ভেতর থেকে ধারণ করতে পারবে। কোনো বলিউড তারকা থাকলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে যেত তার উপস্থিতি। অথচ এই সিনেমার আসল নায়ক জসওয়ান্ত সিং খালরা এবং তার সংগ্রাম।’
২০২১ সালের জানুয়ারিতে অমৃতসর বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো দিলজিতের সঙ্গে দেখা করেন ত্রেহান। মুম্বাই হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যেও মাত্র আধা ঘণ্টা সময় দিয়েছিলেন অভিনেতা।
সেই সাক্ষাতে ত্রেহান বুঝতে পারেন, খালরার প্রতি দিলজিতের গভীর শ্রদ্ধা আছে। গবেষণার নথি ও চিত্রনাট্য হাতে দেওয়ার পর খালরার ছবি দেখে তিনি আবেগে দাঁড়িয়ে যান, চিত্রনাট্যটি কপালে ছুঁইয়ে উচ্চারণ করেন, ‘ওয়াহেগুরু।’
এরপর পারিশ্রমিকের প্রসঙ্গ উঠতেই দিলজিৎ বলেন, ‘এমন একজন মানুষের চরিত্রে অভিনয় করে আমি কীভাবে অর্থ নিই? সেটা তো লজ্জার হবে।’
তবে আনুষ্ঠানিক চুক্তির জন্য পারিশ্রমিকের একটি অঙ্ক উল্লেখ করা জরুরি ছিল। তখন দিলজিতের উত্তর ছিল, ‘যদি কিছু লিখতেই হয়, তাহলে ১ রুপি লিখে দিন।’
হানি ত্রেহান ও দিলজিৎ দোসাঞ্জের সম্পর্ক প্রায় এক দশকের। উড়তা পাঞ্জাব দিয়ে দিলজিতের বলিউড অভিষেকও হয়েছিল ত্রেহানের হাত ধরেই।
পরিচালক বলেন, ‘দিলজিতের সঙ্গে প্রতিবার কথা বলে নতুন কিছু শেখা যায়। ওর মতো মানুষ খুব বেশি দেখা যায় না।’
সতলুজ সিনেমাতে জসওয়ান্ত সিং খালরার সেই সাহসী লড়াই তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনি পাঞ্জাবে অভিযানের সময় নিখোঁজ হওয়া ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষের বিচার ও সত্য উদঘাটনের দাবি তুলেছিলেন। সিনেমাটি গত ৩ জুলাই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি৫-এ মুক্তি পেলেও দুই দিনের মধ্যেই সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

