আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই মানেই ইতিহাস, আবেগ আর চিরন্তন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আগে সেই আবেগে ভাসতে চান না হুলিয়ান আলভারেজ। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের কাছে এটি বিশেষ ম্যাচ হলেও, শেষ পর্যন্ত এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ। লক্ষ্য একটাই, আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা।
ফিফার ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলভারেজ বলেন, ‘এটি অবশ্যই বিশেষ একটি ম্যাচ। কেন বিশেষ, সেটা সবাই জানে, আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। তবে শেষ পর্যন্ত এটি একটি ফুটবল ম্যাচই।’
১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনার কিংবদন্তি পারফরম্যান্স এবং ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা, সব মিলিয়ে এই লড়াই সবসময়ই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনির মতো আলভারেজও চান না, ম্যাচটি অন্য কোনো দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হোক।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে। মাঠে সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে আবারও শীর্ষে তোলার চেষ্টা করব।’
ইংল্যান্ডকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবেও দেখছেন আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড, ‘ইংল্যান্ড খুবই শক্তিশালী দল। বিশ্বের অন্যতম সেরা কয়েকজন খেলোয়াড় তাদের দলে রয়েছে। তাই তারা সেমিফাইনালে উঠেছে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমরা জানি, ম্যাচটি মোটেও সহজ হবে না।’
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কঠিন পথচলার কথাও তুলে ধরেন আলভারেজ। শেষ বত্রিশ, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল -প্রতিটি নকআউট ম্যাচেই লড়াই করে জিততে হয়েছে স্কালোনির দলকে।
‘গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো কাগজে-কলমে সহজ মনে হলেও মাঠে নেমে খেলতে হয়েছে। নকআউটের প্রতিটি ম্যাচ ছিল খুব কঠিন। আমরা কষ্ট করেছি, কিন্তু এই দল সব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে জানে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যায়,’ বলেন তিনি।
দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতাকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আলভারেজ, ‘দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। সবাই এই জার্সির জন্য নিজেদের সেরাটা দিতে চায়। প্রতিটি ম্যাচে আমাদের শতভাগ উজাড় করে দিতে হয়।’
২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত থাকাকে বড় শক্তি বলেও মনে করেন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
সবশেষে লিওনেল মেসির সঙ্গে খেলার অনুভূতির কথা জানিয়ে আলভারেজ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমি মেসিকে দেখে বড় হয়েছি। তিনি আমার এবং আমার ভাইয়ের আদর্শ। আজ তার সঙ্গে খেলতে পারা, জাতীয় দলের হয়ে আরেকটি বড় সাফল্যের জন্য তাকে সাহায্য করার সুযোগ পাওয়া, এটা সত্যিই স্বপ্নপূরণ।’

