মেসির সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা নিয়ে মুখ খুললেন মিশরের কোচ

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুই গোলে এগিয়েও নাটকীয়ভাবে হেরে বিদায় নেয় মিশর। সেই ম্যাচের একটি বিতর্কিত মুহূর্ত নিয়ে তখন থেকেই চলছিল নানা আলোচনা। বিশেষ করে হাতের ইশারায় বর্ণবাদবিরোধী প্রটোকল সক্রিয় করার সংকেত দিয়েছিলেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। অবশেষে সেই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই কোচ।

শেষ ষোলোর সেই ম্যাচে এক পর্যায়ে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। কিন্তু শেষদিকে মাত্র ১৩ মিনিটে তিন গোল হজম করে উল্টো ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় দলটি। ম্যাচের এক পর্যায়ে মোস্তফা জিকোর করা দ্বিতীয় গোলটি বাতিল হয়, কারণ গোলের সূচনায় লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করার সিদ্ধান্ত দেন রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে।

গোল বাতিলের সিদ্ধান্তের পর মিশরের পুরো বেঞ্চ রেফারিকে ঘিরে প্রতিবাদ জানায়। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও তার সতীর্থরাও সেখানে গিয়ে দ্রুত খেলা শুরুর চেষ্টা করেন।

এই সময় টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে হাসানের দুই হাত বুকের সামনে ক্রস করে ধরা একটি ভঙ্গি। অনেকেই এটিকে বর্ণবাদ বা বৈষম্যের ঘটনায় ম্যাচ বন্ধের আনুষ্ঠানিক সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

তবে এক সপ্তাহ পর সেই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলে হাসান বলেন, ‘ওই ইশারার সঙ্গে বর্ণবাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমি শুধু রেফারিকে বলতে চেয়েছিলাম, “আপনি ন্যায্য বিচার করছেন না।”‘

ম্যাচে মেসির সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের বিষয়েও জানান তিনি, ‘মেসি আমার কাছে এসে বারবার বলছিল, ‘কেন? কেন? কেন?’ এরপর আর কী কী বলেছিল, ঠিক মনে নেই। ম্যাচে খুব কমই তাকে এমন তর্কে জড়াতে দেখেছি। শেষ পর্যন্ত আবেগের কারণে সে কেঁদেও ফেলেছিল।’

ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনা বিদায়ের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল বলে দাবি করে বলেন, ‘মিশর খুবই কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল এবং আমরা তাদের চাপে ফেলেছিলাম। আমি ইচ্ছা করেই মেসির সঙ্গে কথার লড়াইয়ে জড়াইনি। তার ক্যারিয়ারের প্রতি সম্মান রেখেই নিজেকে সংযত রেখেছিলাম।’

এদিকে মিসরের কোচের যমজ ভাই ও দলের স্টাফ সদস্য ইব্রাহিম হাসানও মেসির আচরণের সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, ‘রেফারি যখন নিজের কাজ করছিলেন, তখন মেসি এসে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার এবং আমাদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।’

 

Related Articles

Latest Posts