নিউজিল্যান্ডের অভিনেতা স্যাম নিল (৭৮) মারা গেছেন।
আজ সোমবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এই জনপ্রিয় অভিনেতার মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যরা একে ‘আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত’ আখ্যা দেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।
নন্দিত পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘জুরাসিক পার্ক’ সিনেমার ড. অ্যালান গ্র্যান্ট চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন স্যাম নিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়েছেন স্যাম। তবে চলতি বছর তিনি ক্যানসারমুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
স্যাম নিলের পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে তার মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি। তবে তিনি সিডনির সেন্ট ভিনসেন্ট বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বলে জানানো হয়।
বিবৃতি অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যে ছিলেন স্যাম। নিজের জীবন যেভাবে অতিবাহিত করেছেন, ঠিক সেভাবেই সম্মানজনকভাবে পরপারে পাড়ি দেন তিনি।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, নিল ‘মহানদের অন্যতম ছিলেন।’
লাক্সন বলেন, ‘৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিউজিল্যান্ডের গল্পগুলোকে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করেছেন এবং আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পকে আজকের জায়গায় তুলে আনতে তার প্রতিভাকে কাজে লাগিয়েছেন।’
‘আমরা সবাই মারা যাওয়ার আরও অনেক দিন পর পর্যন্ত তার কাজগুলো মানুষ দেখবে ও ভালোবাসবে,’ যোগ করেন তিনি।
১৯৪৭ সালে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেন নিল। শৈশবেই নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান তিনি।
বাবা-মা তার নাম রেখেছিলেন নাইজেল জন ডারমট নিল। তবে পরে তিনি ‘স্যাম’ নামটি ব্যবহার শুরু করেন।
৭০-এর দশকের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের সিনেমায় অভিনয় শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় বড় বড় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।
১৯৯৩ সালে ‘জুরাসিক পার্ক’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তারকা থেকে মহাতারকায় রূপান্তরিত হন স্যাম নিল।
একপর্যায়ে রজার মুর অবসর নেওয়ার পর জেমস বন্ডের চরিত্রে অভিনয়ের জন্যও বিবেচনায় আনা হয় স্যামকে। তবে শেষ পর্যন্ত চরিত্রটি পান টিমোথি ডালটন।
২০২৩ সালে স্যাম বলেন, ‘আমি ওই চরিত্রটি একেবারেই চাইনি।’
‘আমার বন্ধু পিয়ার্স ব্রসনান ওই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য মুখিয়ে ছিলেন। অন্য একজনকে সেই চরিত্রটি দেওয়ার পর আমি নির্ভার হয়েছিলাম,’ যোগ করেন তিনি।
‘জুরাসিক পার্ক’ সিরিজের প্রথম সিনেমায় অভিনয়ের পর আরও দুটি পর্বে অভিনয় করেন তিনি।
পাশাপাশি ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’ ও ‘দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর’-এ অভিনয় করেও সুনাম কুড়ান তিনি।
২০২৩ সালে আত্মজীবনী বইয়ে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুপথযাত্রী হওয়ার কথা জানান তিনি।
কেমোথেরাপি নেওয়ার সময় বইয়ের প্রথম অধ্যায়টি লেখেন তিনি। সেখানে জানান, ‘আমি সম্ভবত মারা যাচ্ছি। আমাকে খুব দ্রুত এই বইটা লিখে শেষ করতে হবে।’
তবে চলতি বছরে তিনি ক্যানসারমুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেন। জানান, একটি নতুন ধরনের ওষুধভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমে তার ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
তিনি বলেন, ‘এইমাত্র স্ক্যান করালাম, আর জানলাম আমার শরীরে ক্যানসার নেই—এটা অসামান্য একটি ঘটনা।’
এই জনপ্রিয় অভিনেতার প্রয়াণে হলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী শোকবার্তা প্রকাশ করেছেন।

