বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানবিক এক ইস্যুতে সরব হলেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগকে ‘পুরো বিশ্বের জন্য লজ্জা’ বলে উল্লেখ করে তিনি ফুটবলকে মানবিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উদ্যাপন করেছিলেন হাসান। মঙ্গলবার বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনেও সেই অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে মিশরের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা বলেন, ‘যদি কেউ ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্ট অনুভব না করেন, তাহলে তার মধ্যে মানবতা নেই। আমি বলতে চাই, এটি আমাদের জন্য লজ্জার। শুধু আরব বিশ্বের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই লজ্জার। বিশেষ করে যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মানুষকে এমন অবস্থায় ফেলে রেখেছেন, তাদের জন্যও এটি লজ্জার।’
হাসানের এই বক্তব্য শেষ হলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অনেক সাংবাদিক হাততালি দিয়ে তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। হোসাম হাসান মনে করেন, ফুটবল কেবল খেলা নয়, এটি মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
তিনি বলেন, ‘আমার বার্তা হলো, ফুটবলকে “সফট পাওয়ার” হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। আমি আপনাদের গণমাধ্যম, বিশ্বের সব ক্রীড়াবিদকে, তাদের পরিচয় যাই হোক না কেন, একটি সম্মিলিত বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
তার সেই বার্তাটি ছিল, ‘ফিলিস্তিনি জনগণকে বাঁচতে দিন। তাদের অস্তিত্ব থাকতে দিন। নিজেদের মতো করে জীবনযাপন করতে দিন। এটাই তো স্বাভাবিক।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলায় সরকারি ইসরায়েলি তথ্য অনুযায়ী ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর জবাবে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

