যোগদানের ১৭ দিনের মাথায় প্রত্যাহার হয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ। তাকে সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এ আদেশ দেন সিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।
তবে নগর পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, নানা অনিয়মের কথা উল্লেখ করে ওসি মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারিপত্র দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
৫ জুলাই দেওয়া ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন সিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।
আজ সোমবার তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা একটি চিঠি পেয়েছে এবং সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’
পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে সূত্র হিসেবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পাঠানো পত্রের স্বারক উল্লেখ করা হয়। চিঠিটিতে সই করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখার উপসচিব নাসরীন সুলতানা।
এতে বলা হয়, ‘মুহাম্মদ শরীফ সাবেক ওসি কর্ণফুলী থানা বর্তমানে সদরঘাট থানায় কর্মরত এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত হতে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। বর্ণিত অভিযোগসমূহের বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে গৃহীত কার্যক্রম মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
সদরঘাট থানাটি চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর) আসনের অধীনে। এই আসন থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে আনা অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘একজন উপ-কমিশনারকে (ডিসি) প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
তবে অনিয়মগুলো কী, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সদরঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার হওয়া ওসি মুহাম্মদ শরীফ ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। কর্ণফুলী থানায় থাকা অবস্থায় এক আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের বিয়েতে গিয়েছিলাম। সেই ছবি দিয়ে বিভিন্নভাবে আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

