বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন। প্রতিষ্ঠানটি ১০০ কোটি ডলারের একটি বিনিয়োগ উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছে, এর মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
এই প্রস্তাব নিয়ে গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভিওনের চেয়ারম্যান অগি ফাবিলার মধ্যে বৈঠক হয়।
‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাউ!’ নামে এই উদ্যোগটি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে নেওয়া একটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের প্রস্তাব। এর লক্ষ্য দেশের ডিজিটাল খাতে আরও বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আনা।
আলোচনা প্রসঙ্গে এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, এই উদ্যোগের মূল ফোকাস থাকবে পরবর্তী প্রজন্মের ডিজিটাল অবকাঠামো, ডিজিটাল সেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মোবাইল আর্থিক সেবা খাতে।
তার ভাষ্য, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ডিজিটাল বিনিয়োগের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
এক বিবৃতিতে বাংলালিংক জানায়, নিজেদের বিনিয়োগের পাশাপাশি ভিওন তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদেরও বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।
ভিওন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অগি কে. ফাবিলা (দ্বিতীয়) বলেন, বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার যাত্রায় আমরা দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার। ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাউ’ উদ্যোগের মাধ্যমে ভিওন ১০০ কোটি ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উচ্চাভিলাষী কর্মসূচিতে প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, নিজেদের বিনিয়োগের পাশাপাশি আমরা আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করব, যেন বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়। ডিজিটাল ও আর্থিক রূপান্তর নিয়ে সরকারের যে লক্ষ্য, তার সঙ্গে আমরা পুরোপুরি একমত। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা কাজ করতে প্রস্তুত।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলালিংককে স্মার্টফোনের দাম আরও কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইন্টারনেটের মূল্য আরও কমানোর বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলেন, যেন সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সহজে ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সব আর্থসামাজিক শ্রেণির মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়া ও সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট নিশ্চিত করার মাধ্যমে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ভিওনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মিশিয়েল সোয়েটিং এবং বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান বুসে।
এদিকে, ভিওন বাংলাদেশে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও অধিগ্রহণের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে দুবাইভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটকের সঙ্গে কৌশলগতভাবে একীভূত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে।
এছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কিছু কৌশলগত সম্পদ নিয়ে সম্ভাব্য সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রস্তাবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মালিকানাধীন মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ অধিগ্রহণের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নগদে বিনিয়োগ বা মালিকানার অংশীদার হতে আগ্রহ প্রকাশ করা কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভিওনও রয়েছে।
ভিওন জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে। পাশাপাশি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পেয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত দুই দশকে বাংলালিংকের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে ২৫০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। একই সময়ে জাতীয় কোষাগারে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি রাজস্বও জমা দিয়েছে।

