হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বাদলপুর ইউনিয়নের দিঘলবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
শতবর্ষী এ বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদ থেকে একের পর এক পলেস্তারা খসে পড়ায় অভিভাবকেরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চাইছেন না। বিদ্যালয়টিতে ১০৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
আজ সোমবার বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, গত দুদিন ধরে একজন শিক্ষার্থীও স্কুলে আসেনি। আজও ভবন থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নিপু রানী দাসের বাবা যাত্রাবর দাস ডেইলি স্টারকে বলেন, দুদিন আগে অভিভাবক সভা চলাকালে ছাদ থেকে প্রায় পাঁচ কেজি ওজনের একটি পলেস্তারার খণ্ড খসে পড়ে। এতে উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
তিনি বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আপাতত তাদের স্কুলে না পাঠানোর বিষয়ে আমরা অভিভাবকেরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিথিলা চৌধুরীর বাবা পঙ্কজ কান্তি দাস চৌধুরী বলেন, যেভাবে পলেস্তারা খসছে, যেকোনো দিন বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিছু হলে দায় কে নেবে?
প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র চন্দ্র বলেন, ২০২১ সাল থেকে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ভবনের দেয়াল ধসে পড়া ও ছাদ থেকে নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিক মো. আবু হেনা ডেইলি স্টারকে বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বছরের পর বছর ধরে চলা প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা ও ব্যর্থতারই ধারাবাহিকতা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একাধিকবার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। তারা ভবনের দেয়ালের ফাটল দেখেছেন, ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও দেখেছেন। অভিভাবকদের আতঙ্কের কথাও শুনেছেন। কিন্তু প্রতিবারই পরিদর্শন শেষ হয়েছে শুধু আশ্বাসে, কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আর নেওয়া হয়নি।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. রফিকুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, নতুন ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীকে নিয়ে স্কুলটি পরিদর্শনও করা হয়েছে। দুই কক্ষের একটি টিনের ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে তহবিল ছাড় হওয়ার কথা রয়েছে।

