দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে ও ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ এক্সিট সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এই নীতিমালার আওতায় আর্থিক সংকটে পড়লেও যেসব ঋণগ্রহীতার ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, তারা ঋণের মূল অর্থ এককালীন পরিশোধ করে দায় নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন।
আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে খেলাপি ঋণ আদায় ত্বরান্বিত করতে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ‘মন্দ’ ও ‘ক্ষতিজনক’ শ্রেণিতে থাকা ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এবং ব্যাংকার গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষ এক্সিট সুবিধা দেওয়া যাবে।
তবে এই বিশেষ এক্সিট সুবিধা পেতে কিছু শর্ত রয়েছে।
সেগুলো হলো—ঋণগ্রহীতাকে এককালীন পুরো বকেয়া পরিশোধ করতে হবে, সব আরোপিত ও অনারোপিত সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে আগের দুটি সার্কুলারের (২০২২ সালের ২১ এপ্রিল জারি করা সার্কুলারের তহবিল ব্যয় আদায় নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত শর্ত এবং ওই বছরের ২৪ মে জারি করা রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকের আয় খাত বিকলন না করার শর্ত) শিথিল থাকবে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত যেসব ‘মন্দ’ বা ‘ক্ষতিজনক’ মানের ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, সেগুলোও এই সার্কুলারের আওতায় বিশেষ এক্সিট সুবিধা পাবে এবং কৃষি খাতের স্বল্পমেয়াদি কৃষি ঋণ ও সিএমএসএমই খাতের কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র ঋণগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এই নির্দেশনা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

