বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে গোল না পাওয়া ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে তুমুল সমালোচনা চলছে। পর্তুগিজ তারকা মাঠে নেমে বিবর্ণ থাকলেও ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের চোটের কারণে মাঠেই নামা হয়নি এখনো। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ডদের দাপটে তারা এখন চাপেই আছেন। তবে পর্তুগালের ডিফেন্ডার জোয়াও কানসেলো মনে করেন, রোনালদো আর নেইমারের নতুন করে কিছু প্রমাণ করার নেই।
মঙ্গলবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। এর আগে গত সপ্তাহে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে খারাপ খেলার কারণে রোনালদোকে নিয়ে চলছে কাঁটাছেড়া।
রোনালদো এখন পর্তুগালের হয়ে বড় টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ ও ইউরো) টানা ১০ ম্যাচ ধরে কোনো গোল পাননি। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বড় ম্যাচে এত লম্বা সময় গোল না পাওয়ার ঘটনা এই প্রথম।
এদিকে, দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ব্রাজিল। তবে পায়ের পেশির চোটের কারণে নেইমার এখনো খেলতে পারেননি। মিয়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ব্রাজিলের শেষ গ্রুপ ম্যাচে তার খেলার কথা রয়েছে।
২০২৩ সালে ব্রাজিলের হয়ে খেলার সময় হাঁটুতে গুরুতর চোট পান নেইমার। এরপর প্রায় তিন বছর তিনি জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে আবার দলে ফিরিয়েছেন। এই দুজনের সময়টা খারাপ কাটলেও বিশ্বকাপের অন্য বড় তারকারা কিন্তু দারুণ ফর্মে আছেন।
আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম দুই ম্যাচেই লিওনেল মেসি ৫টি গোল করেছেন। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে এখন তিনিই বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার পিছু ছুটে বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে চার গোল দিয়ে ১৬ গোল হয়ে গেছে এমবাপের। আর্লিং হালান্ডও এমবাপের সমান ৪টি গোল করে নরওয়েকে নকআউট পর্বে তুলেছেন।
তবে রোনালদোর সতীর্থ কানসেলো মনে করেন, এসব সমালোচনা এই তারকাদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয় না নেইমার বা ক্রিশ্চিয়ানোর কাউকে কিছু প্রমাণ করার দরকার আছে।’
‘তাদের প্রতিভা আর ফুটবলে তারা যা অর্জন করেছে, সেটাই সব বলে দেয়। এসব সমালোচনা কেবলই কথার কথা। ক্রিশ্চিয়ানো আর নেইমার দুজনেই খুব ভালো করে জানে তারা কারা এবং নিজের দেশের জন্য তারা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’
অনেকে বলছেন, রোনালদো দলে থাকায় পর্তুগালের উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হচ্ছে। তবে কানসেলো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলের ভেতর কোনো অশান্তি নেই।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন আরও বেশি একতাবদ্ধ ও শক্তিশালী। আমরা বিশ্বকাপ খেলছি, তাই বাইরে অনেক কথাবার্তা ও চাপ থাকবেই, এটা খেলারই অংশ।’
বিশ্বকাপে নিজেদের এগিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জের মাঝে এই তারকা বলেন রোনালদোর নেতৃত্বেই ঐক্যবদ্ধ আছেন তারা, ‘আমাদের সব মনোযোগ দলের দিকে। এখানে আসার আগে আমরা যতটুকু একতাবদ্ধ ছিলাম, এখন তার চেয়েও বেশি আছি। কোনো ঝামেলা নেই। অধিনায়ক হিসেবে তিনি আমাদের জন্য একটা বড় উদাহরণ। নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি অধিনায়কের মতোই আচরণ করছেন।’
‘তিনি দলের জন্য অবদান রাখতে চান এবং তিনি আমাদের সবার আদর্শ। মাঠে তার মুভমেন্ট অন্য খেলোয়াড়দের জন্য ফাঁকা জায়গা তৈরি করে দেয়। তার ক্যারিয়ারের রেকর্ডই তার পক্ষে কথা বলে।’
বাজে সময় কীভাবে কাটাতে হয়, সেটাতেও রোনালদোকে প্রেরণা মানছেন তিনি, ‘কীভাবে চোট বা খারাপ সময় কাটিয়ে ফিরে আসতে হয় এবং কীভাবে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়—সেটির সবচেয়ে বড় উদাহরণ তিনি। তবে ম্যাচ জিততে না পারার যে একটা হতাশা আমাদের পুরো দলের মধ্যে আছে, সেটা তো অস্বীকার করা যাবে না।’

