ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট দাবি করেছেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করতে দেশটিতে গোপনে স্টারলিংক ইন্টারনেট রিসিভার পাচার করা হয়েছিল।
তবে তার অভিযোগ, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার জেরুজালেমে জেএনএস ইন্টারন্যাশনাল পলিসি সামিটে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বেনেট বলেন, ‘তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে কয়েক হাজার স্টারলিংক রিসিভার সংগ্রহ ও ইরানে পাচারের একটি উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। এসব ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংযোগ সচল রাখা সম্ভব হতো।’
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে। এর আগে ইরান অভিযোগ করেছিল যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দেশটির নিরাপত্তা দুর্বল করতে গোপনে এসব ডিভাইস সরবরাহ করছে। যদিও ইরানে স্টারলিংকের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেই, তবে মাস্ক অতীতে জানিয়েছিলেন যে সেবাটি দেশটিতে সক্রিয় রয়েছে।
বেনেটের মতে, এসব ডিভাইসের উদ্দেশ্য ছিল বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা এবং শেষ পর্যন্ত ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পথ তৈরি করা।
তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে বর্তমান অদক্ষ ইসরায়েলি সরকার সেই উদ্যোগ বন্ধ করে দেয়। ফলে যখন বিক্ষোভ শুরু হয়, তখন প্রয়োজনীয় অবকাঠামো আর সেখানে ছিল না।’
এ বিষয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। স্পেসএক্সও মার্কিন ব্যবসায়িক সময়ের বাইরে থাকায় প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইরানে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভের সময় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহার সীমিত বা বন্ধ করে দেয়। চলতি বছরের শুরুতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং ইরানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনার সময়ও এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইন্টারনেট বন্ধের সময়ে অনেক ইরানি বিকল্প হিসেবে স্টারলিংক ব্যবহার করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী অক্টোবরের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত বেনেট আরও বলেন, ‘ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশকে একসঙ্গে কাজ করে ইরানের বর্তমান সরকারকে প্রতিহত করতে হবে।’
তার ভাষায়, ‘এটি একটি পুরোনো, অকার্যকর ও জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন শাসনব্যবস্থা। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মতোই একদিন এই সরকারেরও পতন ঘটবে।’
তার এ মন্তব্যে উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে করতালির সৃষ্টি হয়।

