কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় থাকা ১২ জনকে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
তিন দিন তিন রাত সীমান্ত সংলগ্ন মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে পাটক্ষেতের আইলে থাকার পর আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের নিয়ে যান বিএসএফ সদস্যরা।
বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) ৪৭ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি উপস্থিত সংবাদকর্মীদের বলেন, বিএসএফ ওই ১২ জনকে গাড়িতে করে তাদের কাঁটাতারের অভ্যন্তরে নিয়ে গেছে। আজকে ঠিক ১০টার সময় একটা পতাকা বৈঠক হয় আমাদের কর্মকর্তা পর্যায়ে।
তিনি বলেন, বিএসএফের একজন প্রতিনিধি এবং আমাদের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এই পতাকা বৈঠক অন দ্য স্পট হয়েছে। যেখানে ১২ জন আটকে ছিলেন, ঠিক সেখানেই হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পতাকা বৈঠকে আমরা জানাই, পুশ ইন কোনোভাবে মেনে নেব না। এই লোকেদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনোভাবেই অনুপ্রবেশ করতে দেব না। এই সিদ্ধান্টাটারা মেনে নেয়।
বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, তাদের পক্ষ থেকে আমাদের বেসামরিক ব্যক্তিদের অনেক বেশি উপস্থিতি সম্পর্কে আপত্তি জানানো হয়েছিল। আমরা তাদের বলেছি, আমাদের বেসামরিক নাগরিক যারা আছেন, তারা আমাদের বর্ডার এলাকাতে থাকবেন না।
‘আমরা বলেছি, তারা যেন ১২ জনকে নিয়ে যায়। এই সমঝোতার ভিত্তিতে তারা ওই জনকে নিয়ে গেছে। এখন সীমান্তের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। কিন্তু এই পুশ ইন রোধে আমাদের যে তৎপরতা ছিল, সেই তৎপরতা আমরা সবসময় বজায় রাখব।’
বিএসএফ কীসের ভিত্তিতে তাদের নিয়ে গেল – জানতে চাইলে রাশেদ কামাল রনি বলেন, গত শনিবার যে পতাকা বৈঠক হয়েছিল, সেখানে তারা তদন্তের কথা জানিয়েছিল। সেটা আপনাদের বলেছিলাম।
‘তো এখন ইনভেস্টিগেশনের পরে আজকে আবার পতাকা বৈঠক হলো। হওয়ার পর তারা নিয়ে গেল। এখন তাদের তদন্তের ফল কী, তা তো আমি বলতে পারব না। কিন্তু তারা নিয়ে চলে গেছে।’
গত শুক্রবার ভোররাতে প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে ওই ১২ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় বিএসএফ। তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘হাসিব মার্কেটে’ চলে আসলে স্থানীয়রা বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবি ও স্থানীয়দের তৎপরতায় তাদের আবার সীমান্তের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠানো হয়।
এরপর থেকে সীমান্তঘেঁষা মাথাভাঙ্গা নদীর তীর সংলগ্ন একটি পাটক্ষেতের আইলে তিন দিন ধরে তপ্ত রোদ আর অনিশ্চয়তার অন্ধকার রাত পার করেন ওই ১২ জন। স্থানীয় বাংলাদেশিরা মাঝে মাঝে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো পার হয়ে তাদের খাবার-পানি দিয়ে আসেন। আজ চতুর্থ দিনের প্রথমভাগেই তাদের সরিয়ে নিল বিএসএফ।

