অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের তৃপ্তিতে ভরপুর বাংলাদেশ দল। মিরপুরের চেনা ‘মন্থর ও টার্নিং’ উইকেটে নয়, বরং স্পোর্টিং ও ভালো উইকেটে খেলেই এই সাফল্য এসেছে—যা দলের স্বস্তি ও আনন্দকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। ম্যাচ শেষে নিজের এই ভালো লাগার কথা গর্ব নিয়ে জানালেন পেসার তাসকিন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ডিএলএস মেথডে অজিদের ৫ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। আগে ব্যাটিং করা অস্ট্রেলিয়ার ভিত শুরুতেই নাড়িয়ে দেন তাসকিন আর মোস্তাফিজুর রহমান। শূন্য রানেই ফেলে দেন ৩ উইকেট। ওই দুর্দশা থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দলটি।
৩৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জেতায় ভূমিকা রাখা তাসকিন ম্যাচ শেষে জানান তৃপ্তি, ‘এটা একটা দারুণ অনুভূতি যে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভালো পারফরম্যান্স হচ্ছে। এবার কেউ উইকেট নিয়েও কিছু বলতে পারবে না। আমরা ভালো উইকেটে খেলছি। এমন নয় যে ধানক্ষেত বা কোনো ক্ষেত। আমরা ভালো উইকেটে খেলছি, ভালো দলের সঙ্গে জিতছি। কাজেই এটা অসাধারণ অর্জন।’
অজিদের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক অর্জনকে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ও স্মরণীয় মুহূর্ত উল্লেখ করে তাসকিন আরও যোগ করেন, ‘এটা অনেক স্মরণীয়। শুধু আমার জন্য নয়, এখনও পর্যন্ত সবার জন্য। কারণ, আমরা এই প্রথম সিরিজ জিতলাম ওদের সঙ্গে। আরেকটা ম্যাচ বাকি, আশা করি ওটাও ভালোভাবে শেষ হবে। কিন্তু এটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বস্তির জায়গা এটাই যে, আমরা ভালো উইকেটে খেলেই জিতছি, ভালো ক্রিকেট খেলছি।’
এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউডকে ছাড়াই স্কোয়াড ঘোষণা করে অজিরা, পরে সিরিজ থেকে ছিটকে যান ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শ। শীর্ষ এই ক্রিকেটাররা না থাকলেও তাসকিনের মতে, কন্ডিশন যেমনই হোক, অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো দলেরই ভালো ক্রিকেট খেলার সামর্থ্য থাকে। তাই তাদের হারিয়ে জয় পাওয়াটা পুরোপুরি যোগ্যতার প্রমাণ।
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাসকিন বলেন, ‘লক্ষ্য কিন্তু একটাই—বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ভালো ফলাফল করা। এটা এখনও ওভাবে হয় নাই। এজন্যই আমাদের বোর্ড এবং ক্রিকেটার সবাই মিলেই যেটা চাচ্ছে যে, ভালো কন্ডিশনে খেলে খেলে আমাদের স্কিলে উন্নতি করা, মানিয়ে নেওয়া।’
সামনে অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কন্ডিশনে খেলার চ্যালেঞ্জ আসবে, যেখানে বাড়তি বাউন্স থাকবে অবধারিত। সেই কঠিন পরীক্ষাগুলোর জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে এখনকার স্পোর্টিং উইকেট দারুণ কাজে দেবে বলে বিশ্বাস তাসকিনের। তার ভাষায়, ‘যতটা এরকম ভালো উইকেটে খেলব, কিছুটা হলেও মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে তা কাজে দেবে।’

