চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরানের কয়েকটি শহরে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। আল জাজিরা ও বিবিসির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানে হামলা চালানোর পর দেশটির রাজধানী তেহরানসহ তাবরিজ ও ইস্পাহান শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইসরায়েল লেবাননে হামলার মাধ্যমে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে—এমন অভিযোগ তুলে এর আগে উত্তর ইসরায়েলে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান।
ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, এই হামলা টানা সপ্তাহব্যাপী আক্রমণের সূচনা মাত্র।
অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, তারা উত্তর ইসরায়েলে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশেই প্রতিহত করেছে এবং এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হামলার পর আইআরজিসির অ্যারোস্পেস কমান্ডার মজিদ মুসাভি বলেন, প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে।
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র এফি ডেফরিন একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী মারাত্মক ভুল করেছে।
ইসরায়েলে হামলার পর তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট স্থগিত করে ইরান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
ইসরায়েল জানায়, দেশের উত্তরাঞ্চলে ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তারা গাজা উপত্যকায় প্রবেশের সীমান্ত পথগুলো আবারও বন্ধ করে দিচ্ছে। এর মধ্যে রাফাহ ও কেরেম শালম ক্রসিং অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এদিকে সোমবার জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দূতাবাসের বিবৃতিতে সব কর্মচারীকে নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

