ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের জেরে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের অত্যন্ত সক্রিয় মাউন্ট লেওতোবি লাকি-লাকি আগ্নেয়গিরিতে শুক্রবার কয়েক দফা অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। 

এতে আকাশে বিশাল ছাইয়ের মেঘ তৈরি হওয়ায় একটি স্থানীয় বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে। 

দেশটির জাতীয় আগ্নেয়গিরি সংস্থা জানিয়েছে, ফ্লোরেস দ্বীপের আগ্নেয়গিরিটিতে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। 

এ সময় আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই ও অন্যান্য উপাদান আকাশে প্রায় আড়াই কিলোমিটার উঁচুতে ছড়িয়ে পড়ে।

আজ ভোরেও আগ্নেয়গিরিটিতে কয়েক দফা অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল।

লেওতোবি লাকি-লাকির তৎপরতার কারণে সেখানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি রয়েছে। আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের চারপাশের পাঁচ কিলোমিটার এলাকা সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আগ্নেয়গিরি সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, ভারী বৃষ্টি হলে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের ‘লাহার’ বা আগ্নেয়গিরিজনিত কাদার ঢলের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত মাউমেরে শহরের একটি স্থানীয় বিমানবন্দরের কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। 

বিমানবন্দরের প্রধান কর্মকর্তা পারতাহিয়ান পাঞ্জাইতান জানান, এর ফলে অন্তত পাঁচটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে।

ইন্দোনেশীয় ভাষায় ‘লাকি-লাকি’ শব্দের অর্থ ‘পুরুষ’। ১ হাজার ৫৮৪ মিটার উচ্চতার এই আগ্নেয়গিরিটির পাশে রয়েছে ১ হাজার ৭০৩ মিটার উঁচু আরেকটি শান্ত আগ্নেয়গিরি। ‘নারী’ অর্থে তার নাম রাখা হয়েছে ‘পেরেম্পুয়ান’।

গত বছরের জুলাইয়ে লেওতোবি লাকি-লাকি থেকে ১৮ কিলোমিটার উঁচুতে ছাইয়ের বিশাল মেঘ ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন পর্যটন দ্বীপ বালির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৪টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।

Related Articles

Latest Posts