পেরেজ নির্বাচনে জিতলে রিয়ালের কোচ হয়ে ফিরবেন মরিনহো

আসন্ন সভাপতি নির্বাচনে জিতলে জোসে মরিনহোকে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। স্প্যানিশ লা লিগার পরাশক্তিদের শীর্ষ পদে আরেক মেয়াদে থাকার লক্ষ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। গতকাল বুধবার নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে পেরেজ নিজেই মরিনহোকে ফেরানোর এই পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে রিয়ালের সভাপতি নির্বাচন। গত ২০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম এই পদের জন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সেখানে পেরেজের মুখোমুখি নবায়নযোগ্য শক্তি খাতের প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা এনরিকে রিকুয়েলমে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপে মরিনহোকে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বড় চমকটি প্রকাশ করেন পেরেজ। সেই ভিডিওতে ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ খ্যাত এই পর্তুগিজ কোচকে কেবল একটি শব্দই বলতে শোনা যায়— ‘হ্যাঁ!’

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা টানা দুই মৌসুম ধরে লা লিগার শিরোপা নিজেদের করে রেখেছে। তাদের এমন দাপটের বিপরীতে রিয়ালের ঘরোয়া পারফরম্যান্স ছিল একেবারেই হতাশাজনক। এই কারণেই মরিনহোকে পুরোনো ডেরায় ফেরানোর এমন তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ২০১২ সালে তার অধীনেই রেকর্ড ১০০ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রিয়াল।

রেকর্ড ১৫ বারের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ীরা গত দুই মৌসুমেই ইউরোপের শীর্ষ এই ক্লাব আসরের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে। সব মিলিয়ে বড় কোনো ট্রফি না পাওয়ার আক্ষেপ থেকেই মূলত মেয়াদ শেষ আগেই নতুন করে নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন সভাপতি পেরেজ।

অন্যদিকে, আরেক প্রার্থী রিকুয়েলমে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হতে পারলে সবার আগে ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার ও স্পেনের অধিনায়ক রদ্রিকে রিয়ালে নিয়ে আসবেন। শুধু তাই নয়, ম্যান সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডকেও ক্লাবে আনার লক্ষ্য রয়েছে তার। এছাড়া, রিয়ালের সাবেক তারকা ফরোয়ার্ড রাউল গঞ্জালেজকে স্পোর্টস ডিরেক্টরের দায়িত্ব দিতে চান তিনি।

২০১৫ সালে চেলসি ছাড়ার পর থেকে মরিনহোর ট্রফি জয়ের খতিয়ান আগের মতো অতটা উজ্জ্বল নয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে তিনি কারাবাও কাপ ও উয়েফা ইউরোপা লিগ জিতেছিলেন। এরপর তার হাত ধরে এএস রোমা জেতে উয়েফা কনফারেন্স লিগের শিরোপা। বর্তমানে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকার কোচের দায়িত্বে আছেন তিনি।

ফুটবল বোদ্ধাদের অনেকেই মনে করেন, মরিনহোর চিরচেনা রক্ষণাত্মক ও অতি-কৌশলী ধরন আধুনিক যুগের গতিময় ফুটবলের সাথে আর ঠিক খাপ খাচ্ছে না। তবে পেরেজের হিসাবটা ভিন্ন। তার বিশ্বাস— কিলিয়ান এমবাপে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহ্যামের মতো তারকাখচিত রিয়ালের স্কোয়াডে কঠোর শৃঙ্খলা ও জয়ের তীব্র ক্ষুধা ফিরিয়ে আনতে মরিনহোই উপযুক্ত ব্যক্তি।

Related Articles

Latest Posts