ভোটে হারার ১ মাসের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের সুর

গত মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যায় ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। 

নজিরবিহীন এই হারে দলটির টানা ১৫ বছরের শাসনামলের অবসান ঘটে। 

ভোটে হারার এক মাসের মধ্যেই দলে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন দলটির নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

নবনির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে ৬০ জন মমতার নির্দেশ অগ্রাহ্য করে বিধানসভায় বিরোধী নেতা হিসাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেছে নিয়েছেন। সহকারী দলনেতা হয়েছেন সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন ও শিউলি সাহা। মুখ্য সচেতক (চিফ হুইপ) হয়েছেন আখতারুজ্জামান। 

স্পিকার ইতোমধ্যে নতুন বিরোধী দলনেতা ও অন্যদের অনুমোদন দিয়েছেন। বিরোধীদের জন্য বরাদ্দ ঘরও তাদের দেওয়া হয়েছে। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী নেতা হিসাবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে চেয়েছিলেন। কিন্তু এ বিষয়টিতে তিনি মাত্র ২০ জন বিধায়কের সমর্থন আদায় করতে সমর্থ হন। 

সম্প্রতি ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে মমতা বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেন। তবে সেখানেও তার দলের মাত্র আটজন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। 

পরাজয়ের পর এত কম সময়ের মধ্য তৃণমূল কংগ্রেসের এই ভাঙন কী প্রত্যাশিত ছিল? এ প্রশ্নের জবাবে রাজ্যের সাবেক বিরোধী নেতা আব্দুল মান্নান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘ আমি আগেই বলেছিলাম, মমতা হেরে গেলে দলটা উঠে যাবে। নীতি-ভিত্তিক রাজনীতি হচ্ছে না। এই যে এত দ্রুত দলে বিদ্রোহ, এটা অতীতে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্তরে হয়েছে। ফলে নজির আছে।’

আব্দুল মান্নান মত দেন, ‘এটা এখানে খুবই দৃষ্টিকটূভাবে হলো। খুব স্বাভাবিকভাবে বিজেপি এই পরিস্থিতির সুবিধা নেবে। পশ্চিমবঙ্গে এই নীতিহীন রাজনীতি, এই পরিমাণ দুর্নীতি, কাউকে সম্মান না দেওয়া সব মমতার অবদান। সিপিএমও এতটা করেনি। অহংকারের পতন হয়েছে। দুর্নীতির জন্য এই অবস্থা। তৃণমূল চুরি করে শেষ করে দিয়েছে। সব নিয়োগে ঘুষ। এত চুরির রাস্তা দেখিয়েছে তারা, তাতে রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার ভয় হচ্ছে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ডয়চে ভেলেকে বলেন,  ‘শুধু আমি নই, সমাজবিজ্ঞানের সব শিক্ষকই এটা ভাবতে পেরেছিলেন। মূলত দুটো কারণে। এই দলের আদর্শগত অবস্থান ছিল না। ক্ষমতাই ছিল একমাত্র আঠা। ক্ষমতা চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দল ভেঙে যেতে পারে, সেই আশঙ্কা ছিল। সেটাই হয়েছে। কর্পোরেট ঢঙে দল চলছিল। দলের কোনো আদর্শগত ভিত্তি না থাকার জন্য এই অবস্থা হলো।’
 

Related Articles

Latest Posts