রোমেরো ফিরেছেন, মেসিসহ অন্যদের চোট পরিস্থিতিও আশাব্যঞ্জক

বিশ্বকাপের আর মাত্র কদিন বাকি। এমন সময়ে আর্জেন্টিনা শিবিরের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ছিল একের পর এক চোট। লিওনেল মেসি থেকে শুরু করে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, হুলিয়ান আলভারেজ, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ সহ দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তবে ক্যানসাসে দলের অনুশীলন শিবির থেকে এবার স্বস্তির খবর এসেছে। সবচেয়ে বড় সুখবরটি দিয়েছেন রোমেরো।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ক্যানসাসে তাদের দ্বিতীয় অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করেছে। আর সেখানেই কোচ লিওনেল স্কালোনি পেয়েছেন বড় এক স্বস্তি। ডান হাঁটুর ল্যাটেরাল লিগামেন্টে চোট পেয়ে প্রায় ৫০ দিন মাঠের বাইরে থাকা রোমেরো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে দলে ফিরেছেন এবং সতীর্থদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে অনুশীলনও করেছেন। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তিনি এখন থেকেই খেলার জন্য প্রস্তুত।

টটেনহামের হয়ে খেলতে গিয়ে গোলরক্ষক আন্তোনিন কিনস্কির সঙ্গে সংঘর্ষের পর রোমেরোর চোখের জল আর্জেন্টিনা শিবিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল। তবে চিকিৎসা পরীক্ষার ফল এবং তার দ্রুত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সব উদ্বেগ দূর করেছে। এখন তার লক্ষ্য বলের সঙ্গে ছন্দ ফিরে পাওয়া এবং বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে পুরোপুরি ম্যাচ-ফিট হয়ে ওঠা।

তবে হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তাকে ঝুঁকি নিয়ে নামানোর সম্ভাবনা খুবই কম। বরং আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কিছু সময় মাঠে নামিয়ে তাকে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে রোমেরোকে প্রথম একাদশেই দেখা যাবে।

আরেকটি সুখবর এসেছে হুলিয়ান আলভারেজকে ঘিরে। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে মৌসুমের শেষদিকে গোড়ালির মচকানো চোটে পড়েছিলেন এই ফরোয়ার্ড। তবে এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ এবং প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে খেলার জন্যও ফিট বলে জানিয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র।

এদিকে দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির অবস্থাও আশাব্যঞ্জক। বাঁ হ্যামস্ট্রিংয়ে সামান্য টান থাকলেও বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তাকে পাওয়া নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। বরং হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দিয়ে মূল টুর্নামেন্টের জন্য শতভাগ ফিট রাখার পরিকল্পনা করছে কোচিং স্টাফ।

গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের আঙুলে ছোট একটি চিড় ধরা পড়েছে। ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে ওয়ার্ম-আপের সময় এই চোট পান তিনি। যদিও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি এবং আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনাই বেশি।

তরুণ মিডফিল্ডার নিকোলাস পাজ বাঁ হাঁটুতে আঘাতের কারণে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। প্রাথমিক রিপোর্ট ইতিবাচক হওয়ায় তাকে প্রস্তুতি ম্যাচে দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে নিকোলাস গনসালেস পেশির চোট থেকে সেরে উঠলেও তাকে নিয়ে এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ফলে প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতে তার খেলার সম্ভাবনা খুবই কম।

লিয়ান্দ্রো পারেদেসও পেশির চোট কাটিয়ে ওঠার পথে রয়েছেন। তাকে নিয়েও কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না আর্জেন্টিনা। প্রস্তুতি ম্যাচে না খেললেও বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে তিনি ফিট হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ গনসালো মন্তিয়েল। উরুর কোয়াড্রিসেপস পেশিতে গ্রেড-২ মাত্রার চোট ধরা পড়েছে তার। সময়মতো সুস্থ হতে না পারলে স্কোয়াডে তার জায়গায় নিকোলাস কাপালদো কিংবা আগুস্তিন গিয়াইকে বিবেচনা করা হতে পারে।

নাহুয়েল মলিনাও প্রায় পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তার চোট তুলনামূলক হালকা ছিল এবং কোনো জটিলতা না হলে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবেন।

Related Articles

Latest Posts