এদেশের বিখ্যাত অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি। নাটক-মঞ্চ-চলচ্চিত্র—সবখানেই অভিনয় করে সফলতার প্রমাণ রেখে গেছেন। ঢাকাই সিনেমায় তিনি নতুন চমক সৃষ্টি করেছিলেন। টেলিভিশন নাটকেও ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন। সংশপ্তক নাটকে রমজান চরিত্রে অভিনয় করে আলোড়ন তৈরি করেন। তিনি বেঁচে নেই, কিন্তু এখনো তার অভিনয়ের কথা দর্শকরা ভোলেননি।
একুশে পদকসহ অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।
নন্দিত অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির জন্মদিন ২৯ মে। তাকে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার।
ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, ‘এই মানুষটি কেন হারিয়ে গেল? মাঝে মাঝে কথাটি ভাবি। এইরকম অভিনয় প্রতিভা দেখিনি। এত চমৎকার অভিনয় করতেন? সংশপ্তক নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেছি। পোশাকে-আশাকে-রুচিতে তিনি দারুণ একজন মানুষ ছিলেন।’
ফেরদৌসী মজুমদার আরও বলেন, ‘হুমায়ুন ফরীদির জন্য আফসোস হয়। খারাপ লাগে। প্রায়ই আফসোস করি। এইরকম অভিনয় প্রতিভা আমি দেখিনি। প্রাণবন্ত, স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় করতেন। শতভাগ অভিনয়ের মানুষ ছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘কী সুন্দর অভিনয় করতেন। তার অভিনয়ের গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। যেকোনো চরিত্রে মানিয়ে যেতেন। কতরকম চরিত্রে তিনি অভিনয় করে গেছেন। যে চরিত্রে অভিনয় করতেন, সেটিই দর্শকপ্রিয়তা পেত।’
ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, ‘হুমায়ুন ফরীদির মধ্যে প্রচুর রসবোধ ছিল। আমাকে মজা করে বলতেন, ফেরদৌসী তোমার পাশে কী রামেন্দু আছেন? দুটো কথা বলব। এইরকম মজা করতেন আর হাসাতেন। কত স্মৃতিই তো মনে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘হাত-পা, পুরো শরীর যেন অভিনয় করত হুমায়ুন ফরীদির। অভিনয়টা জানতেন খুব। বড় মাপের শিল্পী, বড় মাপের মানুষ ছিলেন। মনটা বড় ছিল। শিশুর মতো সরল ছিলেন।’
সংশপ্তক নাটকের কথা মনে করে ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, ‘সংশপ্তক নাটকের সময় এত সুন্দর সময় পার করেছি! ফরীদি খুব হাসাতেন। মজার মানুষ ছিলেন। এইরকম করে কেউ হাসাতে পারতেন না। ফরীদির হাসির জন্য আমরা বকুনি খেতাম আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে।’
তিনি বলেন, ‘মঞ্চে তার অভিনয় দেখেছি। নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেছি। তার কথা মনে পড়লে খারাপ লাগে।’

