এতদিন পর্যন্ত বিদেশে জন্মগ্রহণ করা মাত্র তিনজন ফুটবলার বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে আরও দুটি নাম, স্পেনের তেনেরিফে জন্ম নেওয়া নিকো পাজ ও ইতালির রোমে জন্ম নেওয়া জুলিয়ানো সিমিওনে।
আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে বৃহস্পতিবার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দলে আছেন স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের মিডফিল্ডার জুলিয়ানো ও ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর মিডফিল্ডার পাজ।
এই দুই তরুণ ফুটবলারের অন্তর্ভুক্তি আলবিসেলেস্তেদের জন্য নতুন এক নজির গড়েছে। প্রথমবারের মতো তাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন বিদেশে জন্ম নেওয়া দুজন ফুটবলার।
ফুটবলের মহাযজ্ঞে তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের হয়ে এর আগে মাত্র তিনজন ফুটবলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন, যাদের জন্ম আর্জেন্টিনার বাইরে। তারা হলেন— ১৯৩০ সালের উরুগুয়ে বিশ্বকাপে খেলা স্পেনের সান্তা ব্রিহিদায় জন্ম নেওয়া পেদ্রো সুয়ারেজ, ১৯৩৪ সালের ইতালি বিশ্বকাপে খেলা প্যারাগুয়ের আসুনসিওনে জন্ম নেওয়া কন্সতান্তিনো উরবিয়েতা সোসা এবং ২০১০ (দক্ষিণ আফ্রিকা), ২০১৪ (ব্রাজিল) ও ২০১৮ সালের (রাশিয়া) বিশ্বকাপে খেলা ফ্রান্সের বাহেস্তে জন্ম নেওয়া গঞ্জালো হিগুয়াইন।
চলমান মৌসুমে নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন পাজ ও জুলিয়ানো। এর স্বীকৃতি হিসেবে তারা পেয়েছেন বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়ে।
সিরি আয় ঐতিহাসিক একটি মৌসুম কাটানো কোমোর চতুর্থ স্থান অর্জন করে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথমবারের মতো নাম লেখানোর অভিযানে পাজ ছিলেন উজ্জ্বল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০ ম্যাচে ১৩ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট এসেছে তার কাছ থেকে। অন্যদিকে, লা লিগায় চতুর্থ স্থান পাওয়া অ্যাতলেতিকোর হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৬ ম্যাচে ৭ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট করেছেন জুলিয়ানো।
চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, পাজের বাবা পাবলো পাজ ও জুলিয়ানোর বাবা দিয়েগো সিমিওনে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে একইসঙ্গে খেলেছিলেন আর্জেন্টিনার হয়ে। বর্তমানে অ্যাতলেতিকোরই কোচের দায়িত্বে আছেন সিমিওনে।
ওই আসরে বোর্দোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ‘এইচ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে একসঙ্গে মাঠে নেমেছিলেন পাবলো ও সিমিওনে। সেখানে নবাগত দলটির বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
ম্যাচটিতে শুরুর একাদশে থেকে পুরো ৯০ মিনিট খেলেন পাবলো। অন্যদিকে, দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে হাভিয়ের জানেত্তির বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন সিমিওনে। তবে সেবার কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ হয় আলবিসেলেস্তেদের বিশ্বকাপ যাত্রা। ডেনিস বার্গক্যাম্পের শেষ মুহূর্তের গোলে নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল তারা।

