সর্দার আজমুনকে ঘিরে ইরানের ফুটবলে তৈরি হওয়া বিতর্ক যেন নতুন মোড় নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ ওঠার পর জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া এই স্ট্রাইকারকে আবারও দলে ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের এক ভাইস প্রেসিডেন্ট।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুলকরিম হোসেইনজাদেহ বলেন, ‘মাতৃভূমির প্রয়োজন হলো তার সন্তানদের মধ্যকার সম্পর্কের সুতো অটুট রাখা। সারদার আজমুন সেই সম্পর্কের প্রকাশ ঘটিয়েছেন, বিষয়টি যেন আমরা উপেক্ষা না করি। সম্ভব হলে তাকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা উচিত।’
বর্তমানে তুরস্কে প্রস্তুতি ক্যাম্প করছে ইরান জাতীয় দল। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কোচের প্রাথমিক দলে জায়গা হয়নি ৩১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত বিশ্বকাপকে ঘিরে ইরানের রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তার বাদ পড়া নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে আজমুন নিজেকে ‘ইরানের সন্তান’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, একসময় অন্য একটি দেশের কাছ থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
আজমুন লিখেছিলেন, ‘আমি যেখানেই ফুটবল খেলি না কেন, আমার পরিচয়, হৃদয় এবং গর্ব সবই ইরান।’ একই সঙ্গে জাতীয় দলের জন্য শুভকামনাও জানান তিনি।
ইরানের ক্রীড়া সাংবাদিকদের অনেকেই ধারণা করছেন, বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার সময়সীমার আগে এখনও তাকে স্কোয়াডে যোগ করা হতে পারে।
ইরানের হয়ে ৫৭ গোল করা আজমুন ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলেও পরিচিত মুখ। বেয়ার লিভারকুসেন ও এএস রোমার হয়ে খেলেছেন তিনি। তবে অতীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিতর্কেও জড়িয়েছিলেন এই স্ট্রাইকার।
গত মার্চে দুবাইয়ের আমিরের সঙ্গে তার একটি ছবি প্রকাশ হওয়ার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বর্তমানে দুবাইয়েই খেলছেন ও বসবাস করছেন আজমুন।
জাতীয় দলের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই অবশ্য বলেছেন, স্কোয়াড নির্বাচন ছিল তার ক্যারিয়ারের ‘সবচেয়ে কঠিন টেকনিক্যাল সিদ্ধান্ত’ এবং খেলোয়াড় বাছাইয়ে শুধুই ফুটবলীয় বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।
‘টিম মেল্লি’ নামে পরিচিত ইরান বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ ‘জি’তে নিজেদের শেষ ম্যাচে সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে খেলবে ইরান।
এদিকে ফিফার অনুমোদনের পর বিশ্বকাপ চলাকালে ইরানের বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসন থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়ারও প্রস্তুতি চলছে।

